সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শোক

জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক শোকবার্তায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় মন্ত্রীরা বলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ এমন একজন রাজনীতিককে হারালো যিনি পুরোটা জীবন আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে ১০ বছর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তারা বলেন, ফরিদপুর-২ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনবার জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী স্বাধীনতা উত্তরকালে দেশ গঠনে প্রত্যন্ত এলাকার জনমানুষের নেতা হিসেবেও বড় ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

এদিকে প্রতিমন্ত্রী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও উপ-মন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তারা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদ উপনেতা হিসেবেও তিনি অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতি তথা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ ও সৈয়দা আছিয়া খাতুনের কন্যা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপ প্রাপ্ত হন। ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট তাকে বর্ষসেরা নারী (উম্যান অব দ্য ইয়ার) নির্বাচন করে। সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী সাজেদা চৌধুরী ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।-খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম