সাইফুলের বিরুদ্ধে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ !

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল তার বৃদ্ধ পিতা ও মাতাকে বেধর মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৬ আগস্ট গজরা মৈষাদী গ্রামে তাদের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তার বাবা ইউপি সদস্য আঃ মান্নান সরদার থানায় মামলা করার জন্য গেলে ঘটনা ফাঁস হয়।

সাইফুল ইসলামের পিতার আঃ মান্নান সরদার বলেন, সে আমার স্ত্রী অর্থাৎ ওর মাকে অনেক মারধর করেছে। আমি কেন মামলা করতে গেলাম তাই আমার গায়েও হাত তুলেছে। তিনি আরও বলেন, প্রায় সময়ই আমার ও আমার স্ত্রীর উপর এমন পাশবিক নির্যাতন করে। আমার মনে হচ্ছে ও অমানুষে পরিণত হয়ে গেছে। এমন ছেলে আমার সন্তান হতে পারে না। আমি খুবই যন্ত্রণায় আছি।
গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সানাউল্লাহ মোল্লা বলেন, সাইফুল তার মাকে বেধর মেরেছে। যা পৃথিবীর কোন সন্তান করতে পারবে না, সহ্যও করবে না। আমি তাকে ডেকে সাসিয়েছি। পরে তার মায়ের পায়ে ধরে মাফ চেয়েছে। যতই মাফ চাক পিতা মাতার উপর সন্তান হাত বা মারধর কখনো ছোট অপরাধ হতে পারে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ছাত্রলীগের যারা কর্ণধার তারা হয়তো তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

এদিকে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধানের সাথে। তিনি বলেন, ও ছাত্রলীগের কলঙ্ক করতেছে। তার বাবা মাকে অনেক মেরেছে। এটা কোন সন্তান করতে পারে। আমার কাছে অভিযোগ আছে প্রতিনিয়ত সে তার মা বাবার উপর এমন নির্যাতন করে। যে সন্তান পিতা মাতাকে নির্যাতন করে, এমন ছেলে আমার পছন্দ না। ইউপি সদস্যকে মারধর করার কারণে আমি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিব।

এ ব্যাপারে মোঃ সাইফুলকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে সাথে সাথে লাইন কেটে দেয়। তবে গজরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, এ ধরনের অপরাধ খুবই দুঃখজনক। তবে আমি তার সাথে কথা বলেছি, সে বলেছে মারামারি করে নাই।

চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, যদি ছাত্রলীগের পদধারী কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তাহলে আমরা খতিয়ে দেখব এবং বুজাবো। বুজানোর পরও যদি একই অপরাধ করে তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফম/এমএমএ/

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম