শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং স্মার্ট বাংলাদেশের চিন্তা

।। হায়দার মোহাম্মদ জিতু।। রাজনীতি মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণেই সর্বদা জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব প্রয়োজন, যাঁরা জনগণ ও তার সম্বলকে সম্পদ মানবেন, সমস্যাকে সম্ভাবনায় পরিণত করবেন। বাংলার জনগণের চরম দুর্ভাগ্য, তাদের আশা বারবারই শোষক ও তার দোসরদের আগমনে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। হাজার বছরের এই আরাধ্য ধন স্বাধীনতা, জাত্যভিমান প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সফল হয়েছেন।

বহু মত-পথের বাঙালিকে এক করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ‘অপশক্তি, দূর-শক্তি, বিরোধী শক্তি’ সব ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করেছে।

বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এখন নিবেদিত আছেন তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। বন্দুক, বুলেট, গ্রেনেডের বাধা তুচ্ছ করে এগিয়ে চলেছেন দেশকে স্বাবলম্বী করার যুদ্ধে।

বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকেন্দ্রিক আত্মস্বার্থ বেছে নিলে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ অধরাই থেকে যেত। তিনি সব সময় চেয়েছেন বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। পুনরায় সেই আকাঙ্ক্ষার দেখা মিলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে। সেবাদাসের বৃত্তের বাইরে সংকট, সংকীর্ণতা হটিয়ে বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হয়েছে, হচ্ছে। এই অমোঘ সত্যকে শোষক, শোষকের উচ্ছিষ্ট অংশ ভোগকারীরা মেনে নিতে পারছে না। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা মহাসংকটের পরও কেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলা দেশ সমৃদ্ধি ধরে রেখেছে, এটাও অনেকের গাত্রদাহের বিরাট কারণ।

উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বরাবরই একটা অংশ ছিল যাদের পেশা কিংবা জীবিকাই ছিল সংকট ও সমস্যা তৈরি করা। এরাও এখন তৎপর। ফলে ঘরে-বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে মাঠ গরমের খেলায় নেমেছে। আরেক পক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবল অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য জোনগুলোকে টার্গেট করে অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রে মেতেছে।

প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমাতে হুন্ডিসহ চোরাপথে দেশে অর্থের লেনদেন বাড়িয়েছে। অর্থাৎ সরকারের কোষাগারে সংকট সৃষ্টির টার্গেটে নেমেছে। বিদেশিদের মনোরঞ্জন ও তাদের কাছে ফরিয়াদ করছে দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য। গুমের মিথ্যা নাটক মঞ্চস্থ করে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সংকটে আছে এমন গুজবে কথায় কথায় ভিনদেশি হস্তক্ষেপ কামনা চলছে। অথচ এখানকার কেউ তাদের প্রশ্ন করে না, ভিনদেশি মাতবর সাহেব, দৈনিক বন্দুকের গুলিতে যে পরিমাণ মানুষ আপনার তল্লাটে খুন হচ্ছে তাতে আপনার ঘরের মানবতা কই? আপনাদের নির্বাচনে গড় ভোট কত পড়ে?

দেশ ও মাকে নিয়ে যে কেউ হুটহাট মন্তব্য করবে, গুঁতাগুঁতি করতে চাইবে তা বাঙালি মেনে নেবে—এমন আচরণ বীর বাঙালির নয়। অপ্রতিরোধ্য শেখ হাসিনা বিশ্ব বাঙালিকে নিয়ে এসবেরও জবাব দিয়ে চলেছেন। যার নজির আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ চিন্তা। যেখানে দেশের নাগরিকরা প্রযুক্তিগত আচরণে সাবলীল হবে, অর্থনৈতিক লেনদেনসহ সব কিছু ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে একটা স্মার্ট সমাজ নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রগতিশীল চিন্তায় গুজবকারীদের তহবিল শেষ হয়ে যাবে। কারণ যে কেউ যেকোনো প্রান্ত থেকে সঠিক তথ্য জানতে পারবে।

‘কারো সাথে বৈরিতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব’—দেশের এই নীতিকে শিরোধার্য করে শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কাজেই কূটনীতিকসহ সব বিদেশিকে তাদের দেশের বিনিয়োগ কিংবা স্বার্থ-সম্পর্কের সঙ্গে এ দেশের সমন্বয় হচ্ছে এককভাবে সেটাই চিন্তা করা উচিত। পৃথিবীর তাবৎ বিনিয়োগ, ব্যবসা মানুষকেন্দ্রিক। কাজেই সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের মতো এত বড় বাজার নিশ্চয়ই কেউ হাতছাড়া করতে চাইবে না।

ভয় দেখানোর সময় ফুরিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ চিন্তাকে অনুধাবন করে এককভাবে কারো ওপর নির্ভর নয়, বরং চাহিদার গুণে বৈশ্বিকভাবে বাজার গড়তে হবে এবং সেটা সম্ভব। শেখ হাসিনা সব কিছুর বাইরে একটা নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তা হলো সাহস। কাজেই এই অসীম সাহসে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মিত হবে।

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা

haiderjitu.du@gmail.com

ফোকাস মোহনা.কম