শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশের এত উন্নয়ন-অগ্রগতি: শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদ্বোধন

চাঁদপুর : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে আজকে বাংলাদেশের এত উন্নয়ন ও অগ্রগতি। কিন্তু দেশের যারা গুজব ছড়াচ্ছে, দেশকে অস্থিতিশীল করবার চেষ্টা করছে এবং আবারও নাশকতা করবার পায়তারা করছে তাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা বিজয় মেলা মঞ্চ থেকে সেই প্রত্যয় ঘোষণা করতে চাই। যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিয্দ্ধু সংঘটিত হয়েছিল, ৩০ লাখ মানুষ অকাতরে প্রাণ দিল, এত নারী নির্যাতিত হল এবং দেশটা ধ্বংস্তুপে পরিণত হল। সে লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে আমরা কখনো বিচ্যুত হব না।

দীপু মনি বলেন, যার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যিনি মায়ের মমতায় দেশটিকে পরিচালনা করছেন, যার মনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা, এদেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা। যিনি দারিদ্র্য বিমোচনে বিশে^র সফল একজন রাষ্ট্র নায়ক। যিনি মানুষের এবং নারীর ক্ষমতায়নে, শিক্ষায় ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে, শিল্পায়নে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে, দুর্যোগ মোকাবেলায়, বৈশি^ক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় বিশে^র সফলতম একজন রাষ্ট্র নায়ক। তার হাতে আছে দেশ। অতএব আমাদের ভয়ের কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমাদের অতীতের গৌরবগাঁথা যেমন মনে রাখব, তেমনি অতীতে কার কি অপকর্ম ছিল, তাও যেন আমরা মনে রাখি। কোন অপশক্তি বার বার আমাদের পিছু টেনে ধরেছে, কারা আমাদের অগ্রগতিকে বার বার বাঁধাগ্রস্ত করে, কারা আমাদের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে আমাদের তাদেরকে চিনতে হবে এবং জানতে হবে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাদেরকে প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

মেলা কমিটির চেয়ারম্যান বীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এম.এ.ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারী।

জেলা প্রশাসক বলেন, তৎকালীন সময়ে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন তারা জানতেন না সকালে যুদ্ধেগেলে বিকেলে পরিবারের নিকট আর ফিরে আসবেন কিনা। এসব গল্পগুলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকরী প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের জিজ্ঞাসা করে দেখলাম একজনও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবগত নন। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে। মেলার প্রতিদিনের আয়োজনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত ও তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনার ব্যবস্থা করতে হবে। এমন প্রজন্ম চাই, যারা দেশের পতাকার মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখবেন।
পুলিশ সুপার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এমনটাই প্রত্যাশা। চাঁদপুরে যারা বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, তারা নতুন প্রজন্মের জন্য যুদ্ধের গল্পগুলো লিখে যান। লেখার পরে পান্ডুলিপি দিলে আমরা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করব।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ডিসেম্বর হচ্ছে আমাদের বিজয়ের এবং অহংকারের মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শ বুকে ধারণ করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ.ওয়াদুদ বলেন, বিজয় মেলা হচ্ছে আমাদের একটি মিলন মেলা। আমাদের সাথে কারো শত্রুতা নেই বরং বন্ধুত্ব আছে। আমাদের সবাইকে দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে।

মেলার মহাসচিব হারুন আল রশিদের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল। তিনি বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের জন্ম হয়নি। সে জন্য বড় আফসোস। কারণ এখন অনেকেই মন্ত্রী, এমপি এবং বড় কর্মকর্তা হতে পারবেন কিন্তু নামের পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা শব্দ ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন না।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বীর মুক্তযোদ্ধা মো. সানাউল্যাহ এবং গীতা পাঠ করেন দ্বীপান্বিতা দাস।
মেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী, বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেলা কমিটির চেয়ারম্যানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং সকল অতিথিদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

এর আগে স্থানীয় শিল্পীদের শত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ জাতীয় পতাকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন ও ফেষ্টুন উড়িয়ে মেলার শুভ সূচনা করেন। এছাড়া মন্ত্রী অতিথিদেরকে নিয়ে মেলার স্থান পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত স্মৃতি পরিদর্শন করেন।

ফম/এস.পলাশ/এমএমএ/

শাহরিয়া পলাশ | ফোকাস মোহনা.কম