শাহরাস্তির আয়নাতলী বাজারে খালের উপর অর্ধ শতাধিক দোকান

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

শাহরাস্তি (চাঁদপুর):  চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী বাজারে সরকারি খাল দখল করে অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনার উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় আশপাশের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৪৪ টি অবৈধ দোকান অপসারনের নির্দেশ দিলেও বিকল্প সংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় হতাশ ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, আয়নাতলী মৌজার অন্তর্ভুক্ত ওই বাজারে সড়ক ও জনপথের রাস্তার পূর্ব পাশে খালের উপর অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে খালপাড়ের দোকান নামে পরিচিত। যুগ যুগ ধরে দখল সূত্রে মালিক বা ভাড়াটিয়া হয়ে এসব দোকানে ব্যবসা করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যিনি আগে দখল করেছেন তিনিই মালিক। কখনো ভাড়া দিচ্ছেন আবার মোটা লেনদেনের ভিত্তিতে হস্তান্তর করছেন অবৈধ দখল সত্ত্ব। খাল দখলমুক্ত করতে সরকারিভাবে বারবার পদক্ষেপ নিয়েও সুরাহা হচ্ছেনা এসব দখলদারিত্বের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও সময়ের পালাবদলে পুনরায় দখল হচ্ছে এসব জায়গা।

গত ২৭ জুন চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শারমিন আক্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মিত এসব অবকাঠামো নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে সহকারি কমিশনার (ভুমি) শাহরাস্তির নিকট ভুমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) দুপুরে ওই বাজারে গিয়ে ব্যবসায়িদের সাথে আলাপকালে তারা নোটিশ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিলে তাদের পথে বসতে হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন।

বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আবদুল কাদের জিলানী জানান, দোকান ভাঙ্গার নোটিশ পেয়েছি। দোকান ভাঙ্গলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের সকলের রোজকার এখানে। দোকান ভাঙ্গলে যেন সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

ফল ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দোকান ভাঙ্গলে আমরা কর্মহীন হয়ে যাব। দোকানের আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যেন বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

আরেক ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুর রহমান জানান, আমরা অনেক বছর ধরে খালপাড়ে ব্যবসা করে আসছি। ইতোমধ্যে দোকান ভাঙ্গার নোটিশ দেয়া হয়েছে। দোকান ভাঙ্গলে আমরা কোথায় যাব? সরকারের পক্ষ থেকে এই দোকানগুলো না ভাঙ্গলে বা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলে আমরা উপকৃত হবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। অথচ খাল দখলের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এখানে ফসলী জমি হুমকীর মধ্যে রয়েছে। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে খাল দখল করে ব্যবসা করে আসছে। দখলকৃত এসব জায়গা আবার চড়া দামে হস্তান্তর হচ্ছে। অচিরেই এসব খাল দখলমুক্ত করার দাবী এলাকাবাসীর।

ফম/ফয়েজ/এমএমএ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম