শাহরাস্তিতে শিশু হত্যাকাণ্ড : শোকে স্তব্দ গোটা গ্রাম, কিশোর আসামী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

শাহরাস্তি (চাঁদপুর): চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা গ্রামের মিয়া বাড়িতে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী তানহা আক্তার নাদিয়া (০৮)  ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ গ্রামবাসী। ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে গত ৭ নভেম্বর রাত ৯ টায় মিয়া বাড়ি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মামলার অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামী মোঃ মানিক হোসেনকে (১৬) ওই দিন আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ মামলার তদন্তের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এসময় এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মানিকের ফাঁসি দাবি করেন। এলাকার লোকজন জানান, মানিক এলাকার চিহ্নিত চোর, তার বাবা আঃ কাদেরও একজন চোর এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।

আরও পড়ুন>>শাহরাস্তিতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

এ ঘটনায় এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, গত ২ দিন ভয়ে তাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। তাই অনেকে শিশুদের স্কুলে পাঠাননি।

ইউপি সদস্য মহরম আলী জানান, মানিকের বাড়ি খেড়িহর গ্রামে। প্রায় ১০ বছর পূর্বে সে তার নানার বাড়ি কাদরা নাসের বাড়িতে চলে আসে। তার নানা মকবুল হোসেনের সাথে মাঝে মধ্যেই মিস্ত্রির কাজ করত সে। দু’বছর পূর্বে মাদক সম্পৃক্ততায় মানিকের বাবা আঃ কাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়, সেসময় ৬ মাস জেল খেটে বের হয় । মানিক ১৫ দিন পূর্বে দিনেদুপুরে কাদরা বাজারে চুরি করে জনতার হাতে আটক হয়। এলাকাবাসী তাকে বেঁধে রাখে। পরে সকলের উপস্থিতিতে আর চুরি করবে না বলে ছাড়া পায়।

মানিকের মামা জহির জানান, তিনি ৭ বছর পূর্বে বিদেশ থেকে দেশে আসেন। ভাগ্ণে মানিকের উশৃঙ্খল কর্মকান্ডের জন্য তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেননি তিনি।

এলাকার মোঃ আবুল বাসার জানান তিনি এ সংবাদ পেয়ে তার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। নাদিয়ার দাদা রুহুল আমিন ও দাদী সাজেদা বেগম আদরের নাতনিকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। তারা মানিকের ফাঁসি চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা মিঞা বাড়ির প্রবাসী শাহাদাত হোসেন বাবু’র ছোট মেয়ে তানহা আক্তার নাদিয়াকে (০৮) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের পানিতে ডুবিয়ে দেয় খেড়িহর তেলি বাড়ির আবদুল কাদেরের পুত্র মোঃ মানিক হোসেন। ওইদিন ভোররাতে শাহরাস্তি থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে এবং পরবর্তীতে আদালতে গিয়ে  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

ফম/এমএমএ/ফয়েজ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম