
শাহরাস্তি (চাঁদপুর): চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক শিক্ষকের পক্ষে বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মাতা শাহিনা বেগম অভিযুক্ত আটক শিক্ষক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ও এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে আলিম ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল খালেক সংবাদ সম্মেলন করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মাতা শাহিনা বেগম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে (অভিযোগকারীর কন্যাসহ) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মালেক কু-প্রস্তাব দেন এবং তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় এক শিক্ষার্থী চিৎকার করতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল মালেক তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানাতে গেলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগীদের ধমক দেন। কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ গত রোববার অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষের কিছু ব্যক্তি তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি গোষ্ঠী ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর চরিত্রহননের চেষ্টা করে বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার সমাজিক নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে আলিম ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল খালেক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, চিতোষী সুলতানিয়া ফাযিল মাদরাসার বাংলা প্রভাষক মোঃ আব্দুল মালেক এর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেছে, যার প্রেক্ষিতে তাকে গত ০৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত দু’ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে অছাত্র যুবকদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলার স্বার্থে অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল। এর ফলেই ক্ষোভে তাদের পরিবার ও কিছু অসাধু মহল মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে বাংলা প্রভাষক মোঃ আব্দুল মালেক কে ফাঁসানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর মধ্যে প্রবলভাবে আলোচিত।
অন্যদিকে মাদরাসা গভর্ণিং বডিতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পেরে কিছু ব্যক্তির অসন্তোষের প্রেক্ষিতে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে। সাম্প্রতিক অভিযোগটি সেই মহলের সুপরিকল্পিত অপপ্রচারেরই অংশ এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষকের চরিত্রহননসহ তাঁর পেশাগত ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বিষয়টির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
ফম/এমএমএ/


