শাহরাস্তিতে দুটি ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ অর্থসহ ৮ লক্ষাধিক টাকার পণ্য লুট

শাহরাস্তি : শাহরাস্তিতে দুটি ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বলশীদ বাজারে মজুমদার ফার্মেসী ও পলাশ মেডিকেল হলে এ ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটে।

এতে উভয় দোকানের বিভিন্ন দামি ওষুধ ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারনা করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই মজুমদার ফার্মেসীর মালিক ইখতিয়ার উদ্দীন মাসুদ ও পলাশ মেডিকেল হলের সুদেব মজুমদারসহ প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ দোকান রাত ৯টা থেকে ১০টার পরে বন্ধ করে চলে যায়। রাতে তারা দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর চোরদের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল গভীর রাতে দোকানের সাটারের তালা ও তালা লাগানোর কড়া ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে দামিদামি ওষুধসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। চোরের দলটি একটি পিক-আপ ভ্যানের মাধ্যমে এসমস্ত মালামাল লুটে নিয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি প্রতিদিনের মতোই আমার নিজের দোকান বন্ধ করে দোকানের ভেতরে ঘুমাই। শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কিছু একটা ভাঙ্গার শব্দ শুনে বাইরে বের হই। বের হয়ে ফার্মেসীর সামনের রাস্তার উপরে দাঁড়ানো একটি পিক-আপ ভ্যান দেখতে পাই। পরে মজুমদার ফার্মেসীর দিকে নজর গেলে দেখি কারা যেনো দোকানের ভিতর থেকে পিক-আপ ভ্যানে কিছু তুলছে। এসময় আমি চোর চোর বলে চিৎকার করলে সঙ্ঘবদ্ধ চোরের দলটি পিক-আপ ভ্যান নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

মজুমদার ফার্মেসীর মালিক মাসুদ মজুমদার জানান, প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে আমি বাড়ি চলে যাই। শনিবার সকালে একটি ফোন পেয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গে। পরে জানতে পারি দোকান চুরির ঘটনা। দ্রুত ছুটে এসে দেখি আমার দোকানের সব লুট হয়ে গেছে। আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ওষুধ এবং বিক্যাশ করার মোবাইলসহ, বিভিন্ন লোড, গ্রামীণফোনসহ বিভিন্ন সিম রেজিঃ করার ৭-৮ টি মোবাইল চোরেরা লুট করে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

অপরদিকে পলাশ মেডিকেল হলের সুদেব মজুমদার বলেন, চোরের দলটি আমাদের পথে বসিয়ে দিল। চোরগুলো খুঁজে খুঁজে দামিদামি ওষুধগুলো নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি দেড় লক্ষ টাকার ওষুধ নিয়েছে। আমরা এই চোরের দলটিকে খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের নিকট।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইদ্রিস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং চুরি হওয়া দোকান গুলো পরিদর্শন করেন। পরে দোকান মালিকদের সান্তনা দিয়ে বলেন, কাউকে সন্দেহ মনে হলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো চোরদেকে ধরে আইনের আওতায় আনার।

চুরির ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওমর পারুক দর্জি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগীদের সান্তনা দেন এবং প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম