শহরের গুয়াখোলায় চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় দুই পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা কুন্ডু বাড়ী সংলগ্ন দুটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় বহু বছর মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। নিরীহ দুই পরিবারের চলাচলের জন্য রাস্তা কাগজপত্রে লেখা থাকলেও বাস্তবে তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না প্রতিবেশী প্রভাবশালী লোকজন। ওই দুই পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে, মৃত্যুবরণ করলে কিংবা কোন সামাজিকতা রক্ষা করাও অসম্ভব। এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানো হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তারা শুধুমাত্র চলাচলের জন্য নূন্যতম ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সরেজমিন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কুন্ডু বাড়ীর মন্দিরের উত্তর পাশে ড্রেনের ওপর দিয়ে ওই দু’টি পরিবারের লোকজন চলাচল করছেন। পরিবার দু’টি হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম বেপারী ও হাজী আবদুল মতিন গাজীর পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আবদুর রহিম বেপারী গুয়াখোলার বাসিন্দা জয়নাল আবদিনের কাছ থেকে ১৯৯৭ সালে সম্পত্তি ক্রয় করে বসবাসের জন্য বাড়ী তৈরী করেন এবং হাজী আবদুল মতিন ১৯৯১ সালে একই এলাকার বাসিন্দা শ্রী সম্ভু নাথ সরকারের কাছ থেকে সম্পত্তি ক্রয় করে পাশাপাশি দুটি পরিবার বসবাস করে আসছেন। তাদের উভয়ের দলিলে ইজমালি চলাচলের রাস্তার কথা চৌহদ্দিতে উল্লেখ থাকলেও বর্তমান চিত্র উল্টো। ওই এলাকার প্রত্যেক পরিবারের চলাচলের রাস্তা থাকলেও এই দুই পরিবার এখন কোনঠাসা। তাদের দুই পরিবারের বাড়ির সামনে সরু রাস্তা, কিন্তু রাস্তার পশ্চিমে একজনের বসতঘর এবং পূর্বে দেয়াল দিয়ে আরেকজন বন্ধ করে রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম দিকের ঘর ভেঙে রাস্তা দেয়া অথবা পূর্বের দেয়াল অপসরাণ করে চলাচল করার সুযোগ মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেয়া সম্ভব।

আবদুর রহিম বেপারীর ছেলে মো. অহিদুর রহমান জানান, আমরা যখন এখানে বসবাস শুরু করি তখন চলাচলের রাস্তা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী লোকজন আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি নিজে কর্মসংস্থানের কারণে ঢাকায় থাকি। বাসায় আমার মা, ছোট বোন, দুই ভাই ও তাদের স্ত্রী সন্তানরা থাকেন। আমাদের পাশে আরেক পরিবারও থাকে। আমাদের এই দুই পরিবার কিভাবে থাকি তা বাস্তবে কেউ এসে না দেখলে বুঝানো সম্ভব নয়। আমার মা কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু রাতের বেলায় ড্রেনের ওপর দিয়ে চিকিৎসক যাওয়ার জন্য রাজি হননি। আমার বোন বিয়ে দেয়ার উপযুক্ত হয়েছে। সেই সামাজিকতাও রক্ষা করা সম্ভব নয়।

অহিদুর রহমান আরো জানান, আমাদের পরিবার ও পাশবর্তী হাজী আবদুল মতিন গাজী সাহেবের পরিবার খুবই নীরিহ। আমরা আমাদের প্রতিবেশী কারো সাথে কোনভাবে বিবাদে জেতে চাই না। এখানে শুধুমাত্র মানবিক বিষয়টি জাগ্রত হওয়া দরকার। কারণ বহু বছর এই এলাকায় আমরা সব ধর্মের লোকজন অত্যন্ত সৌহার্দ্য সম্পর্ক নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমি শুধুমাত্র আমাদের নূন্যতম চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র, আমাদের স্থানীয় কাউন্সিলর এবং প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি। বিশেষ করে পৌরসভার মেয়র এবং স্থানীয় কাউন্সিলর মহোদয় প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন, তাহলে আমাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের বন্ধ রাস্তাটির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম