চাঁদপুর : চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা গোলাম রাব্বী। বাহারাইনে ছিলেন ৭ বছর। সেখানে কাজ করেছেন লন কার্পেট ঘাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। তখন থেকেই পরিকল্পনা করেন দেশে এসে তিনিও এই ঘাষ চাষ করবেন। ২০২০ সালে দেশে আসেন এবং ২০২১ সালের শুরুতে সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জাফরাবাদ এলাকায় ৪০ শতাংশ পতিত জমি ইজারা নিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বাণিজ্যিকভাবে লন কার্পেট ঘাস চাষ শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যেই সফলতা আসতে শুরু করেছে। এখন ৫ একর জমিতে লন কার্পেট ঘাসের চাষ হচ্ছে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের। একই সাথে রাব্বীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নপুরন হয়েছে।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিন পশ্চিম জাফরাবাদ এলাকার দুটি পতিত জমিতে চাষ করা ঘাসগুলোর পরিচর্যা করতে দেখাগেল বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দা। রাব্বীর এই ঘাস চাষের প্রকল্প শুরু করার পর থেকে তারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। একই সাথে তারা ঘাস লাগানো থেকে শুরু করে যতœ নেয়া, বড় হলে কেটে বিক্রি করা ইত্যাদি কাজ আয়ত্ব করে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম শেখ জানান, আমাদের এলাকার এই দু’টি জমি পতিত অবস্থায় পড়েছিল। রাব্বী এসে ইজরা নিয়ে ঘাস চাষ শুরু করে। কয়েকবার বিক্রিও করেছেন। আমাদের এলাকার অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

ঘাসের পরিচর্যা করেন শ্রমিক মো. মোশারফ ও আব্দুর রহমান। তারা জানান, সাধারণত আমাদের এলাকায় কেউ এভাবে ঘাস চাষ করে না। রাব্বীর এই উদ্যোগে প্রথম। পতিত জমিতে প্রথমে বালু ভর্তি করে একটি স্তর করা হয়। এরপর আরেকটি স্তরে মাটি। মাটির উপরে পলিথিন বিছিয়ে ঘাস লাগানো হয়। গরমের সময় ঘাসগুলো বিক্রির উপযোগী হতে ৩ মাস সময় লাগে। আর শীতের সময় ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগে। আমরা নিয়মিত এসব ঘাসের পরিচর্যা করি। আস্তে আস্তে কার্পেট ঘাসের চাহিদা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ শেখ জানান, ঘাস আবাদ করে বিক্রি করা যায় আমরা জানতামনা। রাব্বীর এই উদ্যোগ দেখে ভাল লাগছে। কারণ এই জমিগুলো অনাবাদী পড়েছিল। এখন পরিবেশটা খুব সুন্দর হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে ঘাস কেনার জন্য। এলাকার অনেক বেকার মানুষের কাজেরও ব্যবস্থা হয়েছে।
প্রবাস ফেরত তরুন উদ্যোক্তা গোলাম রাব্বী জানান, আমি বাহারাইনে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ ৭ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছি। সেখানে এই লন কার্পেট ঘাসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। ওই দেশে থাকা অবস্থায় আমার স্বপ্ন ছিল দেশে এই ঘাস চাষ করা যায় কিনা। ২০২১ সালের শুরুতে ভারত থেকে লন কার্পে ঘাসের বীজ এনে চাষ শুরু করি। এখন আর বীজ লাগে না। একটি জমি থেকে নিয়ে অন্য জমিতে ঘাস লাগাচ্ছি। বর্তমানে ৫ একর জমিতে ঘাস আবাদ আছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরো ১৫ একর জমিতে আবাদ শুরু হবে। এখন প্রায় ৩৫-৪০জন শ্রমিক কাজ করছে। ঘাসের আবাদ বৃদ্ধি হলে আরো লোকজনের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো জানান, প্রতি বর্গফুট ঘাস তিনি এখন বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। Greenঘাস.com.bd ও Landscaping.com নামে দুটি ফেজবুক পেজের মাধ্যমে লোকজন কার্পেট ঘাস বিক্রির জন্য যোগাযোগ করেন। বাড়ি ও অফিসের আঙিনার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই কার্পেট ঘাসের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে ঘাস বিক্রি করে এবং শ্রমিকদের বেতন দিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকার মত লাভ হয়। প্রকল্প বড় হলে আরো লাভ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাব্বী জানান, লন কার্পেট ঘাস চাষ করার জন্য জমি পাওয়াটাই এখন বড় ধরণের সমস্যা। সরকারের খাস ও পতিত জমিগুলো এই ধরনের ঘাস আবাদের জন্য লীজ দেয়া হলে অনেকেই বিনিয়োগ করার জন্য এগিয়ে আসবেন। আমার সাথে যদি কোন বেকার যুবক এই কাজ করার জন্য পরামর্শ চান, আমি সার্বিক সহযোগিতা করব।
ফম/এমএমএ/


