রাত ১২টা থেকে নৌযান ধর্মঘট আরেক সংগঠনের

এবার ১১ দফা দাবি আদায়ে নৌযান ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। আজ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে লাগাতার এই ধর্মঘট শুরু হবে।

এর আগে নৌযান শ্রমিকদের আরেকটি সংগঠন আচমকা ধর্মঘট ডাকে গত বুধবার। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে আশ্বাসের পর সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। দুদিন পর আরেকটি সংগঠন ধর্মঘট ডেকে বসলো।

ধর্মঘটের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন বা বন্দর কার্যক্রম অস্থিতিশীল করার কোনো চক্রান্ত আছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এতে আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। সরকার পতন-সরকার গড়ার ক্ষেত্রে এই ধর্মঘটের কোন ভূমিকা নেই। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এক বছর আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেডারেশনের আওতাভূক্ত ছয়টি সংগঠন এই ধর্মঘটের সাথে আছে। এর ফলে পণ্যবাহী, যাত্রীবাহী ও বালু-তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

এর আগে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে নৌযান শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেয় ‘নৌ শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ’। নতুন এই সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়; শুধুমাত্র ধর্মঘটের জন্যই গঠিত হয়েছে। এতে চারটি সংগঠন লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, নৌযান শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ কার্গো ভলগেট ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রলার ভলগেট শ্রমিক ইউনিয়ন যুক্ত আছে। পরদিন বুধবার বিকালে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান নৌ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারে সাথে বৈঠকের পর দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

রাত থেকে ডাকা ধর্মঘটে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাথেও অখ্যাত ছয়টি সংগঠন রয়েছে। বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন, রাঙ্গামাটি কার্গো নৌযান শ্রমিক ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটি নৌযান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ভলগেট শ্রমিক ইউনিয়ন নতুন করে ধর্মঘট ডেকেছে।

আগে ধর্মঘট ডেকে প্রত্যাহার করা এবং নতুন ধর্মঘট ডাকা দুটি সংগঠনই পরস্পরের মূল সংগঠন দাবি করেছে।
শতভাগ খাদ্য ভাতা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক, ভারতগামী জাহাজের নাবিকদের ল্যান্ডিং পাস নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাট এবং বিভিন্ন জেটি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরে চার কোটি টন পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। এর বড় অংশ নিজস্ব জাহাজের মাধ্যমে শিল্প-কারখানার মালিকরা পরিবহন করে থাকেন। আর দেড় কোটি টন পণ্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের মাধ্যমে জাহাজ বুকিং দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে। ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে প্রথমদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। কিন্তু দীর্ঘায়িত হলে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত সবগুলো জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়; চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের দায় গিয়ে পড়বে আমদানি পণ্যের দামের ওপর।

ফম/এমএমএ/

নিউজ ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম