চাঁদপুর : পবিত্র মাহে রমজান আসলে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে খাদ্য পন্যের দাম কমানো হলেও বাংলাদেশে এর বিপরীত। নানা অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয় পন্যের মূল্য। তবে এর ব্যাতিক্রম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মধ্য চরকুমিরা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম ও নয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ী মামুন হোসেন। ক্রয় মূল্য ও ১ টাকা লাভে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন এই দুই ব্যবসায়ী। যা পুরো দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য দৃষ্টান্ত।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন উপজেলার নয়াহাট বাজারে গিয়ে দেখাগেছে মামুন হোসেন কয়মূল্য থেকে ১ টাকা ও কোন কোন পণ্যে ৫টাকা কমে বিক্রি করছেন। আর মধ্য চরকুমিরা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম বিক্রি করছেন ক্রয়মূল্যে।
এই দুই ব্যবসায়ী রোজার সময়ে ইফতারে ব্যবহৃত চিনি, চোলা বুট, মশারি ডাল, খেশারি ডাল, বেসন, সয়াবিন, মুড়ি, চিড়া, খেজুর ইত্যাদি বিক্রির জন্য তাদের দোকানগুলোতে সাজিয়ে রেখেছেন। বাজার মূল্য থেকে কম রাখায় তাদের ক্রেতারাও খুবই খুঁশি।
শাহ আলম স্টোরে ইফতার সামগ্রী কিনতে আসা রানু বেগম বলেন, আমি এই দোকানের নিয়মিত ক্রেতা। তবে রমজান মাসে শাহ আলম কোন লাভ করেন না। যে কারণে অনেকে দুর থেকে এসেও এখান থেকে কিনেন।
মধ্য চরকুমিরা গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, শাহ আলম এর মত সারাদেশের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট না করে গরীব দু:খি মানুষের জন্য পন্যের দাম কমিয়ে রাখা দরকার। শাহ আলম এর এমন উদ্যোগকে গ্রামের সকলে স্বাগত জানিয়েছে। আশাকরি তিনি এই ধারা অব্যাহত রাখবেন।
ক্রয়মূল্য থেকে কেজিতে এক টাকা লাভে ইফতার সামগ্রী বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজানে জিনিসপত্রের দাম কমে। আমি নিজেও দুবাইতে ছিলাম। গত ১০বছর পোল্ট্রি ব্যবায় জড়িত। দুই বছর আগে মুদি ব্যবসা শুরু করেছি। এ বছর এলাকার লোকদের কথা চিন্তা করে রমজানের খাদ্যপণ্য ১ লাখ টাকা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি এবং অনেকে এসে প্রয়োজন অনুযাায়ি ক্রয় করছেন।
ক্রয় মূল্যে বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, প্রথম দুই বছর ১ টাকা লাভে বিক্রি করেছি। গতবছর থেকে ক্রয়মূল্যে বিক্রি করছি। যতদিন বেঁচে থাকবো এই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশের সকল ব্যবসায়ী এভাবে এগিয়ে আসবে এটি হচ্ছে আমার প্রত্যাশা।
তিনি আরো বলেন, আমার এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিষয়টি প্রচার হওয়ার কারণে অনেকে বিদেশ থেকে ইফতার সামগ্রীর অর্ডার দেয়। ওইসব ইফতার সামগ্রী প্রবাসীদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
ফম/এমএমএ/


