যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে চাঁদপুরে ঈদুল আযহা উদযাপন

চাঁদপুর: করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় কিছুটা ছেদ পড়লেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর জেলায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের নামাজ আদায় শেষে সকলে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। মোনাজাতে করোনাভাইরাসের মহামারীসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সঙ্কট মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। জেলা সদরের মসজিদগুলোতে মহামারি করোনাসহ কঠিন রোগ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালর নিকট বিশেষ প্রার্থনা করেন অধিকাংশ ঈদের জামাতে।

নামাজ শেষে মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন।

রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে জেলা সদরে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত শুরু হয়। সকাল ৯টার মধ্যেই ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কোন ধরণের সমস্যায় পড়েনি ঈদের নামাজ আদায় ও কোরবানি করার কাজে।
ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়: চাঁদপুর পৌর ইদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায়। নামাজের জামাতে ইমামতি করেন উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদীন বাহাদুরপুরের মরহুম পীর হযরত মাও: দুদু মিয়ার উত্তরসুরী পীর হযরত মাওলানা মুফতি সাজ্জাত হোসেন।

এ প্রধান জামাতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, পৌর মেয়র এডভোকেট মো: জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো: হেলাল হোসেনসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহন করেন। নামাজ শেষে মুনাজাতে পীর সাহেব বলেন, এ নামাজ লোকদেখান নামাজ ও কুরবানী নয়। এ নামাজ ও কোরবানী হতে হবে শুধু মাত্র মহান আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টির জন্য।

চাঁদপুর পুলিশ লাইনস্ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। সেখানে ঈদের জামাতে অংশ নেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইমামতি করেন পুলিশ লাইনস্ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালাম। চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে সকাল ৭.৪৫ মিনিটে। চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৭টায়। সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমান।

বেগম জামে মসজিদে সকালসাড়ে ৭টায়। চিশতিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুটি ইদের জামাত: প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। পুরান বাজার মধুসুধন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৭.৪৫ মিনিটে। বাবুরহাট স্কুল ও কলেজ মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পুরানবাজার এমদাদিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়, জেলা কারাগার জামে মসজিদে সকাল ৭.৪৫ মিনিটে, পুরানবাজার জাফরাবাদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায়, দক্ষিন গুনরাজদী আহম্মদিয়া ইদগাহ্ মাঠে সকাল ৮টায়, পূর্ব শ্রীরামদি ৩নং গলির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় ও টেকনিক্যাল স্কুল মাঠ চাঁদপুরে সাকল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শাহী জামে মসজিদ সকাল সাড়ে ৭টায়, মসজিদে গোর-এ-গরিবাঁ জামে মসজিদে সকাল ৭টায়, চেয়ারম্যানঘাটা ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, পুরান বাজার ওছমানিয়া কামিল মাদ্রাসায় সকাল ৮টায় এবং বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক জামে মসজিদে ঈদের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭ টায়। যার ইমামতি করেন, মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮ টায় অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন, মসজিদের সহকারী ইমাম মুফতি মো. আবু সাঈদ এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০ টায়। যার ইমামতি করেন, মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আনাছ।

অপরদিকে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ঐহিত্যবাহী আলীগঞ্জ হযরত মাদ্দাহ্ খাঁ (রহ.) জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতটি সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। যার ইমামতি করেন, মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী।

এছাড়াও জেলার কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন।

পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায়, কোরবানি এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ছিল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে খুবই চমৎকার উৎসবের দিন অতিবাহিত করেছে জেলা বাসী।

চাঁদপুর শহরের একাধিক ব্যাক্তির সাথে আলাপ করলে তারা জানান, মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকের আবহাওয়াটা খুবই চমৎকার ছিলো। যার কারণে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় এবং পশু কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখন আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে বৃষ্টি হলে পরিবেশটা আরো সুন্দর হবে। যদিও পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরেও অসচেতনতার কারণে অলিতে গলিতে ময়লা আবর্জনা থেকে যায়।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম