মোহনপুর নৌ পুলিশের অভিযানে ৬ জেলে আটক

৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস

ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর : সরকার ঘোষিত জাটকা রক্ষা কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান জোরদার করেছে। দুই মাসব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই পদ্মা-মেঘনা নদীতে দিন-রাত ব্যাপক নৌ টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের তৃতীয় দিনেও অবৈধভাবে জাটকা আহরণের দায়ে ৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ২টি মাছধরা নৌকা জব্দ করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া প্রায় ৯০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে মৎস্য আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আটককৃত জেলেরা হলেন- মহসীন (৪৬), মোঃ রনি জম্মাদার (২৩), মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোঃ রিপন (২১), মোঃ রাসেল প্রকাশ ফয়সাল (২৩) ও মোঃ জনি জমাদ্দার (২০)। নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফাঁড়ি সূত্র জানায়, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোহনপুর, বাহাদুরপুর, ষাটনল, বাহেরচর, এখলাছপুর ও চরওমেদসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছ আহরণ এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে জাটকা শিকারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আলী বলেন, “জাটকা আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদনের মূল ভিত্তি। আজকের জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মোহনপুর নৌ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। চলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, জেলে ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। ফাঁড়ি অধিক্ষেত্রের হাট-বাজার, মাছ আড়ৎ ও লঞ্চঘাট এলাকায় সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন, লিফলেট বিতরণ এবং জেলে পল্লীতে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও আইনগত বিধান সম্পর্কেও জেলেদের অবহিত করা হচ্ছে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম