
চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলা মৈশাদী ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সরকারি খাল দখল করেছে। এতে খালের পাড় ভেঙে আশপাশের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন এলাকার শত শত কৃষক। আর এই ড্রেজার ব্যবসা দীর্ঘ বছর পরিচালনা করে আসছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।
জানা গেছে, মৈশাদী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া নদীর সাথে যুক্ত সরকারি খাল দিয়ে ড্রেজার স্থাপন করে স্থানীয় শফিকুর রহমান ভূঁইয়া নামের একজন অসাধু ব্যবসায়ী। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।
সেই স্থাপনকৃত ড্রেজার পাইপের কারণে খালের পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে খালপাড়ের ফসলি জমি পানিতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে জানা যায়, মৈশাদী ইউনিয়নের ৩৫ হাজার লোকের বসবাস। এই ইউনিয়নে শতকরা ৮০ ভাহ লোক কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ইউনিয়নে প্রধান একমাক্র খাল মৈশাদী হামনকদ্দি খালটি। যা মৈশাদী ইউনিয়নের ডাকাতি নদী থেকে শুরু হয়ে মৈশাদী-হামনকদ্দি হয়ে বাবুরহাট এলাকায় যুক্ত হয়েছে। খালটির দৈঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। গত কয়েক বছর যাবৎ অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন বালু যাওয়ার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছ। খালের পাড় ভেঙে কৃষি জমিগুলো এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে করে জমি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন খালপাড় সংলগ্ন জমির অনেক কৃষক। খালপাড় সংলগ্ন জমির মালিকরা স্থানীয় সফিকুর ভূঁইয়ার ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, খাল দখলের প্রতিবাদ করলে শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রশাসনও এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। কারণ তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা দিয়ে এই ব্যবসা চালিয়েছেন। এখন আবার নতুন লোকজন তার কাছ থেকে ভাগ বসাতে চায়।
খালের পাড় সংলগ্ন কৃষকরা জানায়, ভাঙনের কারণে তাঁদের জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করে খাল রক্ষা করা না হলে অচিরেই কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে এবং বিপদে পড়বে হাজারো কৃষিজীবী পরিবার।
ফম/এমএমএ/


