মিষ্টিতে মাছির বসবাস

চাঁদপুর: ডায়াবেটিস রোগী ছাড়া মিষ্টি পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে। দুধ দিয়ে তৈরী অতি সুস্বাদু এই খাবার বাঙালি খাদ্য তালিকায় একটি ঐতিহ্য। আত্মীয়ের বাড়ীতে যাওয়ার সময় এবং আচার অনুষ্ঠানে মিষ্টিত থাকবেই। কিন্তু এই খাবারের গুনগত মানও থাকা একান্ত প্রয়োজন। মানুষের এই প্রিয় খাবারটিতে যখন মাছি পড়ে থাকে তখন খাওয়াটা কত ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রামাঞ্চলের মিষ্টির দোকানে নোংড়া পরিবেশ। মিষ্টির আশপাশে মাছি এবং রসের মধ্যে মাছি পড়ে থাকা প্রায়ই দেখা যায়। সাধারণত মিষ্টির দোকানে মাছির আনাগোনা একটু বেশি থাকে। পৃথিবীতে সব ভাল খাবারের মাঝে মাছি বসতে দেখা যায়। যদি ওই খাবার ঢেকে রাখা না হয়, তখনই খাবার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সদর উপজেলার চান্দ্রা চৌরাস্তা মোড় বাজারে গিয়ে দেখাগেলো ৩টি মিষ্টির দোকান। ৩টি দোকানের পরিবেশই একই অবস্থা। নোংড়া পরিবেশে মাটির উপরে খোলা স্থানে তৈরী হচ্ছে মিষ্টি। মোড়ের গোশতের দোকানের পশ্চিম পাশে মিষ্টির দোকানটিতে দেখাগেলো মাটিতে মিষ্টি তৈরী করে গামলার মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে মাছি এসে পড়ছে এবং রসের মধ্যে মাছি পড়ে আছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, প্রতিদিন মেঘনা নদীর পশ্চিম অর্থাৎ চরাঞ্চল থেকে আসা দুধ দিয়ে এসব মিষ্টি তৈরী হয়। প্রতিদিনের তৈরী মিষ্টিগুলো বিক্রিও হয়ে যায়। তবে যে পরিবেশে তৈরী হয়, তা দেখলে খাওয়ার আর রুচি থাকবে না। কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রয়োজনে এসব দোকান থেকেই মিষ্টি ক্রয় করতে হয়। কারণ ১ কেজি মিষ্টির জন্য ২শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে শহরে আসার প্রশ্নেই উঠে না। যে কারণে বাধ্য হয়ে এসব দোকান থেকে মিষ্টি ক্রয় করেন।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন খাদ্যের কারণে। শহরের পাশাপাশি শহরতলী ও গ্রামের মিষ্টির দোকানসহ খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাছাই এবং নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তত্ত্বাবধান বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম