মামলা তুলে না নিলে ধর্ষণের ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি !

মামলার দ্বিতীয় আসামী পারভেজ প্রধান।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): প্রেমের অভিনয় করে প্রেমিকার সরলতার সুযোগে প্রেমিক ও তার বন্ধুরা গণধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাচানী গ্রামের আঃ সালাম মিজির ছেলে ইকবাল শামীম (৩৫) ও বড়হলদিয়া গ্রামের আমজাদ প্রধানের ছেলে পারভেজ প্রধানের বিরুদ্ধে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ওই ধর্ষিত তরুণী।

ওই মামলা তুলে নিতে বাদী ওই ধর্ষিত তরুণীকে হুমকি দিয়েছে মামলার দ্বিতীয় আসামী পারভেজ প্রধান। শুধু তাই নয় মামলা তুলে না নিলে ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে দিবে বলেও হুমকি দেয় আসামি পারভেজ।

বাদী ওই তরুণী বলেন, সোমবার (১ আগস্ট) রাতে আমার মুঠোফোনে কল দিয়ে পারভেজ অকথ্য ভাষায় হুমকি দিয়েছে। মামলা তুলে নিতাম, না হলে ধর্ষণের সময় তোলা ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিবে এবং আমার ছবি দিয়ে পর্নোগ্রাফি করেও ভাইরাল করবে বলে হুমকি দেয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ওই তরুনীর সাথে প্রধান আসামী শামীমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাদের বিয়ের কথাও পাকা হয়। ঘটনার ২০-২৫ দিন আগে ইকবাল শামীম প্রবাস থেকে দেশে আসে। গত ২১ জুন বাদীকে দেখা করতে বললে বাদী অসম্মতি জানায়। আসামীর অনেক অনুরোধের পর তার কথা অনুযায়ী ওইদিনই ঢাকার যাত্রীবাড়ীতে রাত ৮ টার সময় দেখা করে বাদী। ওই সময় আসামী ও তার বন্ধু মতলব উত্তরের বড়হলদিয়া গ্রামের আমজাদ প্রধানের ছেলে পারভেজ প্রধান এই দুইজন বাদীকে জোরপূর্বক কেরানীগঞ্জ এলাকায় বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকা ১৪ নং রোডে অবস্থিত জননী বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা নিয়ে যায়। সেখানে বাদীকে রুমে আটকে রেখে রাত ১২.৩০ ঘটিকা হতে ভোর রাত পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে সকাল বেলা আসামীরা ঘুমিয়ে পড়লে কৌশলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে বাদী। সেখান এসে ২২ জুন কেরানীগঞ্জ থানায় ওই ধর্ষিত তরুণী বাদী হয়ে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এর কিছুদিন পরে বাদীকে প্রধান আসামী বিয়ে করবে প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে পাঁচানী গ্রামের তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সাদা কাগজে জোরপুর্বক স্বাক্ষর নেয় প্রধান আসামীসহ তার সহযোগী ও আত্মীয় স্বজন। শুধু তাই নয়, তাকে গণধর্ষণ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দেয় এবং বাদীর পরিবারকে অনেক বড় ক্ষতি করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এঘটনায় ওই তরুনী বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কামাল বলেন, থানায় জিডি হওয়ার পর আমরা বিষয়টি তদন্ত করেছি। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিডির প্রতিবেদন চাঁদপুর আদালতে জমাদেন। এখন আদালত থেকে নির্দেশনা আসলে থানায় মামলা রুজু হবে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় ঢাকা কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে জেনেছি। ওই মামলাটিও ঢাকা জজকোর্টে চলমান। তবে আসামী ও বাদী সকলেই মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম