মাধ্যমিক শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশ

ফাইল ছবি।

মাধ্যমিক শিক্ষার (সেকেন্ডারি এডুকেশন লেভেল) প্রসারে দ. এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। যুব ও তরুণদের শিক্ষা এবং দক্ষতার পরিসংখ্যান সংরক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড স্কিলস ক্লকের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসে প্রকাশিত জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৫৭.৮ শতাংশ তরুণ-তরুণীর মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক দক্ষতা নেই।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ৯৩.৩ শতাংশ তরুণের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা নেই। এরপর রয়েছে ভুটান (৮৯ শতাংশ), পাকিস্তান (৮৪.৫ শতাংশ), নেপাল (৮১.৭ শতাংশ), ভারত (৭৩ শতাংশ), শ্রীলঙ্কা (৬১.৫ শতাংশ)।

তবে একই বয়সীদের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতায় ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ তরুণের ডিজিটাল দক্ষতা নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ভুটান (৬৮ দশমিক ৫), শ্রীলঙ্কা (৭০ দশমিক ৬) ও ভারতের (৭৩ দশমিক ১) চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে এগিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপালে থেকে। এসব দেশে ডিজিটাল দক্ষতা নেই, এমন তরুণের সংখ্যা যথাক্রমে ৯৯, ৯০ দশমিক ২ ও ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

ডিজিটাল দক্ষতা বলতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও জানাশোনাকে বোঝানো হয়েছে। তরুণদের কত অংশ কম্পিউটার সম্পর্কিত প্রাথমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, সেটা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

এ দিকে ইউনিসেফ ও শিক্ষা কমিশনের ‘রিকভারিং লার্নিং: আর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ অন ট্র্যাক ইন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের চার ভাগের মধ্যে প্রায় তিন ভাগ তরুণের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ৯২টি দেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ ও শিক্ষা কমিশন।

প্রতিবেদনে স্কুলের বাইরে থাকা তরুণদের উচ্চহার এবং মাধ্যমিক স্তরে দক্ষতা অর্জনের নিম্নমুখিতাকে এ জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দক্ষতা-সংকটে ভুগছে।

ইউনিসেফের শিক্ষাবিষয়ক পরিচালক রবার্ট জেনকিন্স বলেন, দক্ষ শিশু ও তরুণ প্রজন্ম দেশের সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। অথচ শিশু ও তরুণদের বড় অংশ অদক্ষ, যা বিশ্বকে অনুৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। এই সংকট সমাধানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।-খবর এন শতাবদী।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম