‘মহানুভবতার দেয়াল’ যেন মানবীয় চর্চা

চাঁদপুর: আমাদের দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায়। এক সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেকেই এসে ক্লাশে ঘুমিয়ে পড়তেন। কারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি অনেকেই বাড়ীতে কৃষিসহ অন্যান্য কাজ করতেন। এখন আর সেই অবস্থা নেই। শিক্ষকদের সম্মানি বেড়েছে, প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যারা শিক্ষকতা করেন তাদের শিক্ষাকগত যোগ্যাতাও আগের চাইতে বেশী। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক গুনাবলীর চর্চা করানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের ১০৯নং হানারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখাগেলো সিঁড়ি উঠতেই একটি দেয়ালে সাইনবোর্ড সাঁটানো ‘মহানুভবতার দেয়াল’। দেখেই একটু থেমে গেলাম। বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ‘মহানুভবতার দেয়াল’ শব্দের অর্থ খুব ভাল করে না বুঝলেও তাদেরকে শিক্ষকরা বাস্তবে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি দেখলে যে কেউর মনে দাগ কাটবে। চমৎকার এই আয়োজনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

সাইনবোর্ডে সাঁটানো ‘মহানুভবতার দেয়াল’ লেখার দুই পাশে লেখা আছে, তোমার যা কিছু প্রয়োজন নেই, তা এখানো রেখে যাও। তোমার যা কিছু প্রয়োজন, তা এখান থেকে নিয়ে যাও।

চাঁদপুরের অনেক সরকারি এবং বেসরকারি প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় ঘুরে এই ধরণের দৃশ্য চোখে পড়েনি। কিন্তু একেবারে গ্রামাঞ্চলের এই বিদ্যালয়টিতে এই ধরণের আয়োজন খুবই প্রশংসার দাবীদার। এই এলাকার অধিকাংশ অভিভাবক কৃষি কাজ, দৈনিক শ্রমিক এবং মাছ আহরণ করে জীবীকা নির্বাহ করে। মেঘনা নদীর পাশে হওয়ার কারণে অধিকাংশ জেলেদের সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের এই ধরণের নতুন আইডিয়া শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মানবিকগুনাবলী সম্পন্ন করে তুলবেন এমন মন্তব্য করলেন বিদ্যালয়ে আশা অনেকেই।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম