মতলব উত্তরে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে অর্ধশতাধিক করাতকল

লাইসেন্স নেই ২৬ টির

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): মতলব উত্তরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে অর্ধশতাধিক করাতকল। মালিকরা লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে মাত্র ১৮টি করাতকল মালিক বন বিভাগের লাইসেন্স নিয়েছেন। আর বাকি ২৬ টির লাইসেন্স করাটা প্রয়োজনই মনে করছেন না। এসব করাতকলে অবাধে চিরাই করা হচ্ছে ফলজ ও ঔষুধি গাছ। মানা হচ্ছে না শ্রমিকদের কোন নিরাপত্তা। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর বাজার, ইসলামিয়া মার্কেট (নতুন বাজার), ছেংগারচর বাজার, কালীপুর বাজার, নবুরকান্দি, বাংলা বাজার সহ কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, আবার কোথাও পথ চলাচলের মূল সড়ক ঘেঁষে এসব কলগুলো গড়ে উঠেছে। তবে করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা ২০১২/ক অনুচ্ছেদ বলছে কোন শি¶া প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রামীণ হাট বাজারের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানো যাবে না। আবার একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব হতে হবে কমপক্ষে ৬ কিলোমিটার। কিন্তু এসব নিয়মনীতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এসব নীতির কোনটাই মানছে না এখানকার করাতকল ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া করাতকল বসাতে বন বিভাগের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলেও মতলব উত্তরে গড়ে ওঠা প্রায় ২৬ টি করাতকলেরই লাইসেন্স নেই। যেন দেখার কেউ নেই। কিন্ত খোদ বন কর্মকর্তার দাবি প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একাধিক করাতকল মালিকের জরিমানা করেছেন।

উপজেলার নবুরকান্দি বাজারের করাতকল মালিক আলমগীর হোসেন মাঝি জানান, আমি গত চার বছর ধরে আমার করাতকল ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছি, গত বছর আমি লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করেছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি লাইসেন্স পাইনি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি সকল নিয়মনীতি ও করাতকল আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। তাদের লাইসেন্সের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি এবং লাইসেন্স করতে সহযোগিতা করে আসছি। ১৮ টি করাতকলের লাইসেন্স আছে এবং প্রায় ২৬ টি চলছে লাইসেন্স বিহীন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই করাতকল মালিকদের তাগাদা দিচ্ছি লাইসেন্স করা জন্য। গত মাসেও ৬ টি লাইসেন্স করা হয়েছে। বাকীগুলো দ্রুতই লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার আমরা লাইসেন্সের বিষয়ে কাজে জোড় দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স বিহীন যেসব করাতকলে বৈদ্যুতের সংযোগ আছে ওই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করার জন্য চিঠি দিয়েছি।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম