মতলব উত্তরে গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা নিয়ে সমিতির সভাপতি উধাও

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা মানব সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রধানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নুরুল ইসলাম প্রধান এখন লাপাত্তা। লগ্নিকৃত টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীরা সমবায় সমিতির কর্মীদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন। সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ টাকা ফেরতের দাবি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।

টাকা ফেরত পেতে সমিতির গ্রাহক উপজেলার গজরা গ্রামের মো. ওয়ালী উল্লাহ বাদি হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে মতলব উত্তর এ সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রধান ও ক্যাশিয়ার সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সিআর মোকদ্দমা নং ২১৪/২০২০ইং।

মতলব উত্তর উপজেলার গজরা গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রধান ২০১৩ সালে গজরা বাজারে মানব সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি সংস্থা চালু করে। যার সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক রেজি: নং ৫৪/১৩। এক লাখ টাকায় প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা লাভ দেয়া হবে- এমন প্রতিশ্রæতিতে গ্রামের মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করেছিল এই সমিতি। মাসিক কিংবা বাৎসরিক কিস্তিতে কেউ এক লাখ, কেউ পাঁচ লাখ, আবার কেউ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় হিসাবে রেখেছিল এই সংস্থায়। কেউ মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য, কেউ গবাদি পশু গরু-ছাগল বিক্রি করে, আবার কেউ কষ্টে উপার্জিত টাকা রেখেছিলেন সমিতিতে।

গজরা গ্রামের মো. ওয়ালী উল্লাহ মানব সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড ১লা নভেম্বর ২০১৯ সালে প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা মুনাফার আশায় ২ লক্ষ টাকা ডিপোজিট করেন। ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান নুরুল ইসলাম প্রধান। এ এলাকার অন্তত দুই শতাধিক নারী-পুরুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে সমিতির পরিচালক।

সমবায়ের নামে অর্থ আত্মসাতের মূলহোতা সমিতির পরিচালক নুরুল ইসলাম প্রধান এখন পলাতক। অন্যান্য স্টাফরা গা ঢাকা দিয়েছে। গ্রাহকরা অফিসে ভিড় করে কাউকে পাচ্ছেন না। লগ্নিকৃত টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এদিকে, মানব সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাঠকর্মীদের দাবি, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মতলব উত্তর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক আলম বলেন, গ্রাহকদের টাকা নিয়ে একটি সমবায় সমিতি পালিয়ে গেছে বলে শুনেছি। সমবায় আইনে কোন সমবায় সমিতি এফডিআর করতে পারে না। গ্রাহকরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এ ধরনের ঘটনা কোন সংস্থা করলে তাদের সমবায় নিবন্ধন বাতিল হবে বলে জানান তিনি।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম