মতলবে জেলে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অনিয়ম

মতলব (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিবন্ধনধারী জেলেদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে মৎস্য অধিদফতর ও ঠিকাদারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এই কর্মসূচির আওতায় মৎস্য অধিদফতরের বিতরণ করা ৩০ ছাগলের মধ্যে ১৩টি ছাগলই মারা গেছে। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ছাগল ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও জেলেরা। উপজেলা মৎস্য অধিদফতরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধিত জেলেদের পুনর্বাসন প্রকল্পে বিকল্প কর্মসূচির আওতায় গত জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বৃহত্তর কুমিল্লা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে উপজেলার জেলেদের জন্য ৬০টি ছাগলের বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলার মতলব পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুকুন্দি এলাকার ১৫ জন জেলেকে দুটি করে মোট ৩০টি ছাগল দেয়া হয়। বিতরণের একদিন পরই আনোয়ার প্রধানের দুটি ছাগল মারা যায়।

উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাগল কেনার জন্য উপজেলা মৎস্য অধিদফতর টেন্ডার আহ্বান করে। মো.জামাল নামের স্থানীয় এক ঠিকাদার ছাগল কেনার দায়িত্ব পান। তিনি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৩০টি ছাগল কিনে স্থানীয় মৎস্য অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রতিটি ছাগল কিনতে খরচ দেখানো হয় ৮ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে ক্রয় কমিটির সদস্যরা জানান তাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে এর বেশি কিছু জানানো হয়নি। এলাকার জেলে আলী আক্তার সরকারের অভিযোগ, তার দুটি ছাগলের একটি মারা গেছে। আরেকটির অবস্থা খারাপ। এসব ছাগলের প্রতিটির বাজারদর দেড়-দুই হাজার টাকা হবে। ছাগল কেনায় মৎস্য অধিদফতর ও ঠিকাদারের অনিয়ম ও দুর্নীতি এ জন্য দায়ী।

ছাগল ক্রয়ের ঠিকাদার মো.জামাল বলেন, আকারে খুব ছোট হলেও কেনার সময় সেগুলো সুস্থ ছিল। পরে অসুস্থ হয়ে কেন মারা গেল জানি না। টেন্ডারের নিয়ম মেনেই ছাগলগুলো কিনেছি। গত কয়েক দিনে চরমুকুন্দি গ্রামের জেলে মিলন সরকার, বোরহানউদ্দিন প্রধান, জাহাঙ্গীর আলম, ও সাজু মিয়ার দুটি করে এবং আলী আক্তার সরকার, মোজাম্মেল সরকার ও জাকির হোসেনের একটি করে আরো ১১টি ছাগল মারা যায়। বাকি ছাগলগুলোও অসুস্থ। চরমুকুন্দি এলাকার জেলে বোরহানউদ্দিন প্রধান বলেন, যে দুটি ছাগল পেয়েছেন সেগুলো দুধের বাচ্চা ও রোগাক্রান্ত। বাড়িতে নেয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কোনোভাবেই খাওয়ানো যাচ্ছে না। আনার দুদিন পর দুটো ছাগলই মারা যায়।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই ছাগলগুলো কিনে জেলেদের দিয়েছেন। প্রত্যেককে দুটি করে ছাগল দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, তিনি বিষয়টি তদন্তে নেমেছেন। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।-খবর এন শতাব্দী।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম