ভোগান্তির শিকার চিকিৎসা সেবায়

।। মোঃ আকতার হোসেন ।। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো স্বাস্থ্য খাতেও দৃষ্টিগ্রাহ্য অনেক উন্নয়ন হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন জটিল চিকিৎসার জন্য মানুষ ছিল রাজধানী ঢাকার উপর নির্ভরশীল। এখন জেলা–উপজেলায় অনেক উন্নত মানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। আজ বেসরকারি খাতেও স্বাস্থ্যসেবা বিকশিত হয়েছে। কিন্ত স্বাস্থ্য খাতে আমাদের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিবিচ্যুতি এখনো রয়ে গেছে।
সরকারি–বেসরকারি উভয় খাতেই বিভিন্ন সংকট বিদ্যমান। বর্তমানে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দোটানায় পড়েছে। অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে।
সেখানে আস্থার সংকটও আছে। অন্য দিকে সরকারি খাতে অব্যবস্থাপনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয় পদে পদে।
স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ আছে, এখানে অনেক বড় বড় সিন্ডিকেট জড়িত। বলা হয়ে থাকে, এর মাথা থেকে পা পর্যন্ত সর্বত্র পচন ধরেছে। দেশে যখন করোনা মহামারি চলছে, ১২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সাত লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত যন্ত্রণাময় জীবন কাটাচ্ছে, তখনো স্বাস্থ্য খাতের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মহামারিকে নাকি অনেকে লুটপাটের সুযোগ হিসেবেই দেখেছে। স্বাস্থ্য খাতের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগও প্রবল।
প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়িয়েই কি কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্য খাত আর দশটি খাতের মতো নয়। এখানকার অনিয়ম বহু মানুষের জীবন–মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। নকল এক্স–রে ফিল্ম আর ভেজাল বা নিম্নমানের ইনগ্রেডিয়েন্ট দিয়ে সঠিক রোগ পরীক্ষা কখনো সম্ভব হবে না।
আর ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া চিকিৎসা রোগীর কোনো কাজে আসবে না। রোগীর মৃত্যুই শুধু ত্বরান্বিত হবে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম–দুর্নীতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
এ জন্য বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দুদক ও গোয়েন্দাদের তৎপর হতে হবে। নিয়মিতভাবে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নিতে হবে। অনিয়মের প্রতিটি ঘটনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
 উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনেক পুরনো। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে এখানকার ব্যাপক দুর্নীতির কথা। গণমাধ্যমেও প্রতিনিয়ত এই খাতটিতে চলা দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অভিযোগ আছে, এখানে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় কেনাকাটায়।
স্বাস্থ্যখাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের স্বচ্ছতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নিতে হবে। চিকিৎসাসেবায় যেন কেউ ভোগান্তির শিকার না হয়, তার দিকে লক্ষ রাখতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
ই-মেইলে: akhter.newsbd@gmail.com

ফোকাস মোহনা.কম