বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন তালিকা থেকে নেতাকর্মীদের নাম বাদ দেওয়া ক্ষোভ

হাজীগঞ্জ: হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুককৃত কাউসিলর তালিকা থেকে নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী এবং বিএনপির সমর্থকদের কাউন্সিলর করায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কাউন্সিলর তালিকায় ১৯জনের নাম থাকলেও পিতার নাম এবং ঠিকানা নেই। এমনকি কারো মোবাল নাম্বার পর্যন্ত নেই।

ইউনিয়নের ১নং আওয়ামী লীগের প্রবীন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এ তালিকা করার অভিযোগ উঠেছে। ওই কাউন্সিল তালিকা থেকে বাধ পড়া নেতাকর্মীরা জেলা নির্বাচন সমন্বয় কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তকদিল হোসেন।

গত ২৫ নভেম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ উত্তর, নোয়াদ্দা, বড়কুল নিয়ে গঠিত ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা যায়। এ নিয়ে উত্তর রায়চোঁ ডা. শিবাসের দোকানের সামনে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ফল সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কালু কন্ট্রাক্টরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ তালিকা তাদের তৈরি নয় বলে জানায়।

এ কাউন্সিল তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ওয়ার্ড ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পরাজিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তকদিল হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার মো. আলী মুরাদ, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মমিন মিয়া, ডা. শিবাস, ডা. মিজানুর রহমান, ছায়েদ আলী বেপারিসহ অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। নেতাকর্মীদের অভিযোগ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর তালিকা ১নং ওয়ার্ডে ১৯জনকে কাউন্সিলর করা হয়। এদের মধ্যে কাউন্সিলর তালিকায় ৫নং ঝুটন সাহা, ৭নং সদস্য খোরশেদ আলম পাট:, এবং ১৪নং সদস্য মিরণ ভান্ডারি সক্রিয় বিএনপির সমর্থক। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তাদেরকে সদস্য করায় নেতাকর্মীরা উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা তকদিল হোসেন বলেন, আমি দেশকে ভালোবেসে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করি। স্বাধীনতার পর লফিত মাস্টার ছিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর হাতে খুন হওয়ার পর আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। অথচ আমি এ সম্মেলনে কাউন্সিলর হতে পারিনি। কবির হোসেন মিয়াজী জাতীয় পার্টি থেকে আগত সে এ বড়কুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধ্বংসের পায়তারা করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আলী মুরাদ বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড ইউপি সদস্য অথচ আমাকে সদস্য করা হয়নি। এসব ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্দন। তিনি এ ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমি অনেক কিছু জানি। আমি কেন কাউন্সিলন সদস্য হতে পারলাম না এ জবাব আমি সঠিক সময়ে চাইবো।

ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কালু কন্টাক্টর বলেন আমরা বিষয়ে কোন মন্তব্য রাজি নই। যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা আওয়ামীলীগ করে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম