বেসামাল বাজার!

মোঃ আকতার হোসেন ।।  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিংয়ের প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত, পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণসহ নানা কারণে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। কিন্তু এর বিপরীতে বাড়েনি আয়। ফলে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
সাধারণ মানুষের দাবি, বাজারে মাছ-মাংস ও সবজির কোন ঘাটতি নেই। তারপরও একটি কুচক্রী মহল প্রতিটি পণ্যের দাম দিনের পর দিন বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের বাজার তদারকিতে যেন ভাটা পড়েছে। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত গলাকাটা দাম আদায় করছেন। প্রশাসনের উচিত প্রতিটি বাজার নখদর্পনে আনা। যাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম যেন বাড়াতে না পারেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অহেতুক যেন কেউ দাম বাড়াতে না পারে, তা খেয়াল রাখতে হবে।
চাঁদপুর সদরে ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি  বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দু-একটা পণ্যের দাম কমলেও প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া। ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই বললেই চলে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
শহরের বাবুরহাট, বিপনীবাগ, বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দাম ঠেকেছে ৫৪০ টাকায়। পাশাপাশি গত সপ্তাহে ৫০ হালি টাকায় বিক্রি হওয়া ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।
এদিকে কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০ টাকার নিচে কোন ধরনের সবজি মিলছে না। বাজারে প্রতিকেজি  বেগুন ৭০ থেকে ৮০, হাইব্রিড শসা ৯০, চিচিঙ্গা ৬০, পঞ্চমুখী ৬০, বরবটি ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৭০, চালকুমড়া ৫০, ঢেঁড়স ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শিম, টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।
বাবূরহাট বাজারের বিক্রেতা করিম বলেন, মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে দিলে আমাদের তো কমে বিক্রি করার সুযোগ নেই। আমরাও তো কোনো না কোনোভাবে ক্রেতা। আমাদেরও তো শাক-সবজি কিনে খেতে হয়।সেখানেও তো কম দামে পাওয়া যায় না। মুরগি কিংবা ডিমেও কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নাই, কারণ সব দিকেই খরচ বাড়তি।
অন্যদিকে মাছের বাজারেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাছ। প্রতিকেজি রুই মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ ছোট বড় হিসেবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশি শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ফার্মের শিং মাছ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। কই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ও পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫০০ টাকায়। তাছাড়া ইলিশের বাজারেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বড় আকারের ইলিশ ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা দরে, মাঝারি আকারের ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় ও ছোট সাইজের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, বাজারে কোনো জিনিসই কম দামে পাওয়া যায় না। আগে ৫০০ টাকার বাজার করলে এক সপ্তাহ ভালোভাবে খাওয়া যেত। এখন সেটা দুইদিনেও চলে না। আর মেহমান অতিথি থাকলে তো কোনো কথাই নাই। এক মুঠো শাকের দামও ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এভাবে মানুষ কি খেয়ে বাঁচবে?
বিপনিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা ছায়েদ বলেন, বড়লোকরা তো দামাদামি করে না। তারা যে দামেই হোক কিনে নেয়। দাম বাড়লেও তাদের কিছু যায় আসে না। অথচ আমাদের মতো মানুষের যত কষ্ট। আমাদের আয় বাড়ে না কিন্তু খরচ বাড়ে তিনগুণ চারগুণ হারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সবজি কিংবা মাছের বাজারে কোনো ধরনের সংকট নেই। তবুও দাম কমছে না। বরং সুযোগ বুঝে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে পকেট ফাঁকা হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসন বাজার মনিটরিং জোরদার করলে ন্যায্যমূল্য দিয়ে পণ্য কিনতে পারবেন তারা। পণ্যের বেসামাল দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। এই দুই শ্রেণির মানুষ আয়ের সঙ্গে পরিবারের ব্যয় সামলাতে পারছেন না। অনেকেই ব্যয় সামলাতে খাবার কেনার বাজেট কাটছাঁট করছেন। জ্বালানি তেলের দামের কারণে সবকিছুর দামই বাড়ছে। কিন্তু যতটা বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে। সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই সুযোগ নিচ্ছেন, সবজি দোকানদার থেকে শুরু করে সবাই। চাল আমদানির সুযোগ দেয়ার পরও চালের বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে চাল মজুদ করে। ভোজ্য তেলেও তাই করা হচ্ছে। বাজার মনিটরিং বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না।
বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ফয়শাল বলেন, এ দেশ আমার আপনার সকলের। সুতরাং পণ্যের মূল্য অযাচিতভাবে বৃদ্ধি করে মানুষকে কষ্ট দিবেন না। অযাচিতভাবে কোন ব্যবসায়ী পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করলে প্রশাসনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম