।। গ্রন্থ রচনা করে সূধীমহলে আলোচনায় ইতিহাস নিরপেক্ষ লেখক আজম পাটোয়ারী।।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সাহিত্য ও গবেষণাধর্মী রচনার জন্য সাহিত্য ও সূধী অঙ্গনে আলোচনায় ইতিহাসনিরপেক্ষ লেখক ও কবি আজম পাটোয়ারী রচিত গ্রন্থ “বেগম খালেদা জিয়া : মাদার অব ডেমোক্রেসি।”
সূত্রে জানা যায়, গ্রন্থটি এখন প্রকাশ অপেক্ষায় রয়েছে, তবে এর পাণ্ডুলিপি ইতোমধ্যেই সাহিত্য ও সূধীমহলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আবেগ বা দলীয় অবস্থান থেকে নয়, বরং ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের আলোকে উপস্থাপনের কারণে এই রচনাটি সূধীমহলে বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা গবেষণাধর্মী কাঠামোয় উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক এখানে ব্যক্তি প্রশস্তি বা বিরোধিতার পথ পরিহার করে সময়ের বাস্তবতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আলোকে তাঁর অবদান বিশ্লেষণ করেছেন—যা একে সাধারণ রাজনৈতিক জীবনী থেকে আলাদা করেছে।
বিজ্ঞজনদের মতে, এই গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা, ধারাবাহিক বর্ণনা ও প্রমাণভিত্তিক উপস্থাপনা। এতে সামরিক শাসন-উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদীয় শাসনব্যবস্থার বিকাশ এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের নানা দিক সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এটি কেবল কোনো ব্যক্তির জীবনকথা নয়, বরং সমকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গবেষণামূলক দলিল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূধীমহলের আলোচনায় উঠে এসেছে যে, আজম পাটোয়ারী তাঁর লেখায় রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়বস্তুকে মূল্যায়নের প্রয়াস নিয়েছেন। এতে পাঠকের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকার একটি নিরপেক্ষ ও পরিমিত চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে, যা ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে অনেকের মত।
আজম পাটোয়ারীর পিতৃনিবাস চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ টরকী গ্রামে। রাজনীতি সম্পৃক্ত একটি সংস্কৃতিচর্চাকারী পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এবং সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গভীর পাঠাভ্যাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর চিন্তাজগৎ এই গ্রন্থের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে গবেষকদের অভিমত। যদিও গ্রন্থটি এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়, তবুও “বেগম খালেদা জিয়া : মাদার অব ডেমোক্রেসি” ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক সাহিত্য ও সূধীমহলে প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। ইতিহাসনিরপেক্ষতা, তথ্যনিষ্ঠতা ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনার কারণে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনী সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, প্রকাশের আগেই এই গ্রন্থ রচনা করে সূধীমহলে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইতিহাসনিরপেক্ষ লেখক আজম পাটোয়ারী—যার লেখনী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গ্রন্থটি সম্পর্কে লেখক জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সমগ্র জীবনীকে মোট তিনটি বিভাগে বিভক্ত করে ৬০টি অধ্যায়ে ৪২০টি সাবহেডলাইনে সাজানো হয়েছে মূলপাঠ্য হিসাবে এবং সেই সাথে আরো যুক্ত রয়েছে ১৬টি প্রবন্ধ। এই গ্রন্থে আরো থাকবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জীবনের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অর্ধশতাধিক ফটোগ্রাফি।
লেখকের দীর্ঘদিনের এই কর্মসাধনাময় গ্রন্থের প্রচ্ছদ এঁকেছেন, চাঁদপুরের আরেক কৃতি প্রচ্ছদ শিল্পী রবিন রায়। এছাড়াও লেখকের আরো বেশ কিছু বই প্রকাশ অপেক্ষায় রয়েছে যার মধ্যে-জুলাই আন্দোলনে বিএনপি’র ভূমিকা ও অবদান, তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার প্রস্তুতি,নাস্তিকতাবাদ একটি অন্ধ বিশ্বাস এছাড়া বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ, ছোটগল্প ও উপন্যাস রয়েছে। তাঁর লেখা কবিতার সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫০০ এবং প্রকাশ অপেক্ষায় থাকা গ্রন্থের সংখ্যাও প্রায় শতাধিক।
বেগম খালেদা জিয়া : মাদার অব ডেমোক্রেসি সম্পর্কে আজম পাটোয়ারী বলেন, আমার খুব ইচ্ছে ছিল এই গ্রন্থটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেয়ার। কিন্তু স্রষ্টার ইচ্ছায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যাওয়া সেই আকাঙ্খাটি পূরণ হলো না। তবে, আমি চাই তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে গ্রন্থটি জনাব তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে। আমি বিশ্বাস করি এই গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করবে,
যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের লড়াইয়ে দল-মত নির্বিশেষে সবার ভালবাসা অর্জন করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, এই বিশাল ইতিহাসগ্রন্থ রচনায় আমার যতটা না কষ্ট হয়েছে তারচেয়ে অধিক কষ্ট হবে যদি এই ঐতিহাসিক গ্রন্থটি প্রকাশ করতে না পারি। কারণ, এত বিশাল বইয়ের খরচও তো কম নয়, আর সেটা আমার পক্ষে বহণ করাও প্রায় অসম্ভব। আমি জানি না এই ঐতিহাসিক দাললীক প্রমাণ্য গ্রন্থটি আদ্যো পাঠকের হাতে তুলে দিতে পারবো কিনা। তবে আমার চেষ্টার কোন কমতি রাখছি না। এই বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে ভালবাসে এমন সুহৃদয় মানুষের নিস্বার্থ ভালবাসা কামনা করি। যে বা যারা আমার এই সৃষ্টিশীলতার পথের সারথী হয়ে গ্রন্থটি প্রকাশে এগিয়ে এসে পাশে থাকবেন।
সবশেষে, আক্ষেপের সুরে লেখক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কেন জানি এখনও বইপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। যার কারণে আমাদের দেশে একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যাঙ্গণ সৃষ্টি হওয়ার পরও মানুষ সস্তা জিনিসের পিছনে দৌড়ায়। তাই দিন-দিন দেশের সাহিত্য-গবেষণা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এবং নিরপেক্ষ লেখনীও অভাব রয়েছে বেশ। তবে, আমার প্রত্যাশা একদিন ঠিক এদেশের মানুষজন বইপ্রিয় পাঠক হয়ে উঠতে পারবে। সেইদিনের আশায় সাহিত্যাঙ্গণ অপেক্ষায় রয়েছে।
ফম/এমএমএ/


