‘বুলবুল’ কেড়ে নিলো এদের মাথা গোজার ঠাঁই

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

চাঁদপুর: হাসিনা বেগম ও তার দু’শিশু সন্তান। রোববার দুপুর পর্যন্তও ছিলো তাদের অস্থায়ী মাথা গোজার ঠাঁই। কিন্তু একইদিন বিকাল ৩টার পরে ‘বুলবুল’ নামের ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া আর জলোচ্ছ্বাসে একমাত্র ঘরটির চাল ও বেড়াসহ সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে নদীতে নিক্ষেপ করে। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে তাদের অবস্থান। মা ও দুই শিশুর চোখের দিকে তাকালে যে কোন পাষ- মানুষেরও মনটা কেঁপে উঠবে। চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বলিয়ারচরের বাসিন্দা তারা। নদীর ভাঙনে শিকার হয়ে একেকবার একেক চরে বাড়ি তৈরি করে। নদীর ঢেউ আর শোঁ শোঁ শব্দ তারা এখন আর ভয় পায় না।

সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ওই চরের কয়েক মাইল জুড়ে এমন বহু দৃশ্য চোখে পড়ে।

ওই চরের বাসিন্দা আবুল খায়ের ও নাদের বেপারী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাব শুরু হওয়ার পরে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলেই সতর্কতার জন্য মাইকিং করা হয়। নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু বাড়ীঘর নয়, নিজেদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং গৃহপালিত গরু, ছাগল, হাস ও মুরগি রেখে চলে যায়নি চরের বহু বাসিন্দা। এই কারণে অনেকে বাড়ীর ঘরে থেকেও ঘরের চাল ও বেড়া রক্ষা করতে পারেননি। বুলবুল এর ২০ মিনিটের তান্ডব সব লন্ডবন্ড করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে হয়ত আবারও নতুন একটি নীড় তৈরী করবেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম