বিপথে গেলে কাউকে ছাড়বো না, যুবলীগকে প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিতে জড়িতদের প্রতি কোনো সহানুভুতি থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিপথে গেলে সে যেই হোক আমি তাদের ছাড়বো না।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে (সম্মেলন) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি বিপথে যায়, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে যেই হোক আমি তাদের ছাড়বো না। তাদের প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘দিন-রাত পরিশ্রম করি দেশের মানুষের জন্য। এই দেশ জাতির পিতা শুধু স্বাধীন করেই যাননি, আর্ত-সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি তার বুকের রক্ত দিয়ে গেছেন- এ কথাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দুর্নীতি করে টাকা বানাতে পারে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী করে অনেকে টাকা বানাতে পারে। এই টাকা দিয়ে হয়তো জৌলুস করতে পারে, চাকচিক্য বাড়াতে পারে, আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডের জিনিস পরতে পারে কিন্তু তাতে সম্মান পাওয়া যায় না।’

‘হয়তো মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে কিন্তু সম্মান পাওয়া যায় না। সেটা দিয়ে মানুষের হৃদয়ও জয় করা যায় না। হয়তো নিজের ভোগের ভেতর দিয়ে একটা আত্মতুষ্টি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে মর্যাদা পাওয়া যায় না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ত্যাগের আদর্শ নিয়ে সবাইকে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দেশকে গড়ে তুলতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যুব সমাজের মেধা, শক্তি, তাদের মননকে কাজে লাগানো- যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করবে দেশ গড়ার জন্য। একজন রাজনীতিবিদ যিনি হবেন তার সেই আদর্শ থাকতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘ভোগে নয়, ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ব। কি পেলাম কি পেলাম না সে চিন্তা নয়, কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, কতটুকু মানুষের কল্যাণে করতে পারলাম সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা।’

‘আমাদের যুব সমাজকে আমরা সেভাবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দুর্নীতির থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজে কি পেয়েছি, কি পাবো, কি পাবো না সেই চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম। মানুষের কল্যাণে কতটুকু করতে পারলাম সেই চিন্তা মাথায় রেখে তারা তা সম্পন্ন করে,’ যোগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ।

এর আগে সম্মেলনস্থলে এসেই জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফম/এমএমএ/

নিউজ ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম