বিদ্যুতের লোডশেডিং, চাঁদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: গত কয়েকদিনে বিদ্যুতের ধারাবাহিক লোডশেডিং এর কারণে চাঁদপুর শহর ও গ্রামের লোকজেনর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উৎপাদনমূখী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ বিভিন্ন বয়সী লোকজন। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে বর্তমানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় চলাচলের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের সাধারণ কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট তৈরী হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। গ্রামের বিদ্যুৎ সরবার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং ২। চাঁদপুরেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। লোডশেডিং এর এটিও একটি কারণ। পুরো জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১২৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে ৫০-৭০ মেগাওয়াট।

লোড শেডিং এ সমস্যার কথা জানালেন একাধিক শিক্ষার্থী। তারা বলেন, আমাদের অনেকেরই সামনে পরীক্ষা। ঠিক যখন পড়ার সময় হয়, তখন বিদ্যুৎ চলে যায়। যার কারণে গরমের মধ্যে পড়া সম্ভব হয় না। বিদ্যুতের এই ধরণের পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।

শহরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানাগেছে, অনেকেই হঠাৎ করে বিদ্যুতের এমন লোডশেডিং এর কারণই জানেন না। কারণ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কোন বিষয় স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

উৎপাদনমূখী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানান, বিদ্যুৎ অধিকাংশ সময় না থাকায় কোন কিছুই উৎপাদন কিংবা তৈরী করা সম্ভব নয়। যার কারণে সঠিক সময় জিনিসপত্র ডেলিভারী দিতে না পেরে নানা কথা শুনতে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় যে পরিমান চাহিদা। সে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবার হচ্ছে না। যার ফলে লোড শেডিং দিয়ে চালিয়ে রাখতে হয়। শহরের দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট এবং রাতে ২২ মেগাওয়াট। এখন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে দিনে ১১ মেগাওয়াট এবং রাতে ১৪ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্যা। এই সমস্যা কেটে গেলে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম