বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হল মতলব দুই উপজেলা ইউপি ভোট

চাঁদপুর:  তৃতীয় ধাপে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১৩ ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিছু কিছু কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকরা জাল ভোট দিতে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক হয়। অনিয়মের চিত্র তুলতে গিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে হুমকি ও হয়রানির শিকার হন সংবাদ কর্মীরা।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকেই প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল সদস্যরা তৎপর ছিলেন। যার কারণে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সমর্থকরা অনিয়ম করার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।

সকাল ১০টায় ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের ৮০নং লধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখাগেছে মহিলা ভোটারদের সর্বশেষ কক্ষে এবং সর্বশেষ বুথে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাহতাব নামে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বয়স্ক নারী ভোটারদের হাত থেকে সীল নিয়ে নিজেই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট দিচ্ছেন। তাকে হাতে নাতে ধরে সাংবাদিকরা। তাৎক্ষনিক ক্ষমা চান এবং এমন আর হবেন না বলেন। বিষয়টি জানানো হয় প্রিজডাইডিং অফিসার শাহীন খানকে। তিনি বিষয়টি জেনে তাৎক্ষনিক ওই কক্ষে গিয়ে মাহতাবকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে অন্য বুথে দায়িত্ব দেন।

সকাল ১১টায় সুলতাবাদ ইউনিয়নের টরকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মহিলাদের বুথে এক সাথে পর্দার আড়ালে ৩ নারী ভোট দিচ্ছেন। ওই কক্ষে নারীদের জন্য দুই সারিতে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে বলা হলে তিনি ধমক দিয়ে দু’জন নারীকে সরিয়ে দেন। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত এভাবে চলছিল ভোট গ্রহন। ওই কেন্দ্রের ভোটের দৃশ্য দেখে মনে হলো অফিসারদের ভোট নেয়ার কোন নিয়ম শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি।

দুপুর সাড়ে ১২টায় একই ইউনিয়নের চরপাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখাগেছে জাল ভোট দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩ যুবক ও কিশোর আটক হলো জনতার হাতে। তাদেরকে পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হস্তান্তর করেন। তারা আটকের পর বলেন, আমাদের আটক করলেন অনেকেইত জাল ভোট দিচ্ছে। তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে সুপারিশ করতে আসলেন আপেল মার্কার এক ইউপি সদস্য প্রার্থী।

এদিকে, ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডের মধ্য ইসলামাবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই সীল মেরে ভোট কাটেন। এমন দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন সংবাদ কর্মীরা। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ওইসব দৃশ্য ডিলিট করে দেয়া হয়।

এছাড়া মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদি দক্ষিণ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ পাটোয়ারীর উপর হামলার ঘটনার অভিযোগ করেছেন প্রার্থী নিজেই। বিপরীতে নৌকার প্রার্থী মোস্তফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম