বাবার লাশ খুঁজতে এসেছে সাত মাসের শিশু ফাইজা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সোবহান। তার লাশ খুঁজে পেতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছে ৭ মাস বয়সী মেয়ে ফাইজা।

সোমবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি কেয়ারের সামনে ফাইজার নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হয়। এ সময় নমুনা হিসেবে ফাইজার মুখের লালা নেয়া হয়। পাশে দাঁড়িয়ে তখন চোখের জল ফেলছিলেন ফাইজার মা ইস্ফাহান সুলতানা।

সোবহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোবহানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানে কোনো খোঁজ মেলেনি সোবহানের। এরপর আজ ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন তারা। ফাইজারের পাশাপাশি নমুনা নেয়া হয় তার ফুপি উম্মে কুলসুমেরও।

আরও পড়ুন>>স্বামীর খোঁজে ডিএনএ নমুনা দিতে সন্তানসহ হাসপাতালে স্ত্রী

চমেক হাসপাতালে উপ-পরিচালক মারমা জানান, নিহতদের মধ্যে অনেকের শরীর জ্বলে অঙ্গার হয়ে গেছে। ফরেনসিক টেস্ট ছাড়া তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে না। ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল চট্টগ্রাম এসেছে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জেলা প্রশাসনে সহায়তা সেলের পাশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ডিএনএ সংগ্রহে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের সকালের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আসতে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেজন্য শনাক্ত এবং শনাক্তহীন মৃতদেহ যেগুলো পাওয়া গেছে তাদের স্বজনদের মধ্যে মা-বাবা, ভাই-বোন এবং ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যেকোনো দুইজনকে ডিএনএ পরীক্ষার বুথে আসার জন্য অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন>>সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

চট্টগ্রাম নগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিএম ডিপো নামের ওই কন্টেইনার টার্মিনালে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। পরে রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু এবং ১৬৪ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।-বিডি জার্নাল।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম