বস্ত্র-খাদ্য সংকট: সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধে ধুঁকছে ১১ লাখ শিশু

ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি এতিমখানায় অন্য পাঁচজনের সঙ্গে একটি রুম শেয়ার করে থাকে আহমদ আল-জাওহর। প্রতিদিন সকালে আহমদ ঘুম থেকে ওঠে। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠতে পারবে কিনা এমন নিশ্চয়তা নিয়ে কোনো দিনই ঘুমাতে পারে না। প্রতিদিনই স্কুলে যায় কিন্তু আবার এতিমখানায় ফিরতে পারবে এমন কোনো চিন্তা তাদের মাথায় থাকে না।

সানার ওই এতিমখানায় প্রায় আটশ অনাথ শিশু বসবাস করে। সেখানে সবচেয়ে বড় যে শিশুটি তার বয়স সাত বছর। তারা ওই এতিমখানায় ঘুমানো বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারে কিন্তু সবগুলো মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না। সহায়তার অভাবে পরিস্থিতি দিনকে দিন আরো খারাপ হচ্ছে। এমনকি তাদের জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নতির জন্য অল্প সহায়তা পাচ্ছে না।

আহমদ আল-জাওহর বলেন, আমরা ক্ষুধার্ত। আমরা এখানে খুব কম খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। আমাদের হাতে কোনো কম্বলও নেই যা শীতকালে পরতে পারি। যখন শীত আসে আমাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়।

এতিমখানার রুমগুলো ছোট ছোট। সেখানে ভালোভাবে থাকা যায় না। দরজাগুলো দেখতে কারাগরের দরজার মতো। বিছানায় পাতা অনেক পুরাতন চাদর। নেই কম্বল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গোসলখানাগুলো ব্যবহার করার মতো নয়। সব ধরনের পোকামাকড়ের আবাস যেন ওই গোসলখানাগুলো।

শীতকালে ওই এতিমখানার অবস্থা আরো খারাপ হয়। সেখানে শিশুদের ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে হয়। যা তাদের ছোট্ট শরীর সহ্য করতে পারে না। কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করতে হয় তাদের নিজের হাতেই। এতে তাদের শারীরিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়।

২০১৫ সালের পর থেকে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধ, সরকারের অবহেলা এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর অনুপস্থিতির কারণে দেশটিতে শিশুদের স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপের দিকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে এতিমখানাগুলোর দিকে চোখ ফেলাই যায় না। সানার এতিমখানাটির উপপরিচালক মেরজাহ হাশেম বলেন, বাচ্চাদের নেই স্কুল ব্যাগ। নেই লেখার কাগজপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামগুলোও। তাই বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতেও সমস্যা হচ্ছে।

এই তিক্ত বাস্তবতার মধ্যে বাচ্চাদের ছাড়তে হচ্ছে এতিমখানা। জোর করে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। কিংবা ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয় রাস্তায়। এতিমখানাগুলোতে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হয় না। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দেশটির স্থানীয় কিছু সংগঠনের মতে, ইয়েমেনে এখন প্রায় ১১ লাখ এতিম শিশু রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে এতিম শিশুর সংখ্যা। যদিও কিছু শিশুকে নিয়ে যান তাদের আত্মীয়রা। কিন্তু অধিকাংশ শিশুদেরই দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। ইয়েমেন এই কঠিন সময়ে অন্যান্য অনেক সমস্যার মতোই এটিকে মোকাবেলা করতে পারছে না। কারণে দেশটির নেই কোনো সম্পদ, নেই কোনো অবকাঠামো।

সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর।

ফোকাস মোহনা.কম