বদরপুর আদমিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় আবারো আগুন : অধ্যক্ষকে হত্যা চেষ্টা!

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর আদমিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শেখ রাসেল আইসিটি ডিজিটাল ল্যাবের দড়জা বাহির দিয়ে লক করে ভিতরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান রাত্রিযাপন করেছিলেন। দরজা বাইরে থেকে লক করে নিচের ফাঁক দিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমার রুমে গত ২৯ জুলাই রাতে আগুন দেওয়ার কারণে সব পুড়ে গেছে। তাই ওই রুমে থাকতে সমস্যা হচ্ছে বিধায় গত ৩ রাত ধরে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের রুমে ঘুমাই। শুক্রবার দিনগত রাত ১ টার দিকে আগুনের শিখার শব্দ পেয়ে হঠাৎ করে ঘুম ভাঙ্গে। উঠে দেখি দরজার কাঠ ও পর্দার কাপড়ে আগুন জ্বলছে। জগে থাকা খাবার পানি দিয়েও আগুন নিভাতে পারি নাই। দরজা বাহির দিয়ে লক করে দিয়েছে তাই খোলার চেষ্টা করেও খুলতে পারি নাই। পরে দরজা জানালা ঠুকেছি, নৈশ্যপ্রহরীকে ডেকেছি কিন্তু কেউ আসে নাই। পরে বাবুল নামে একজনকে কল দিলে তিনি বাড়ি থেকে এসে দরজা খুলে আমাকে উদ্ধার করে।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এটা যে ই করেছে, পরিস্কার বুজতে পারছি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমনটা ঘটানো হয়েছে। আমার জানামতে কাউকে কোন ক্ষতি করি নাই। কে বা কেন আমাক হত্যা করতে চাইছে তা বুজতে পারছি না। আজকে যে ঘটনা ঘটেছে, আমার প্রতি আল্লাহ সহায় আছেন বিধায় বেঁচে গেছি।

এদিকে মাদ্রাসার নৈশ্যপ্রহরী শফিককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি ১১ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছি। রুমে থেকে হুজুরের ডাক চিৎকার শুনে বের হওয়ার চেস্টা করছি। কিন্তু আমার রুমেও বাহির দিয়ে দড়জা লাগিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাই বের হতে পারি নাই। অপরদিকে একই কমপ্লেক্সের ভিতরে বদরপুর আকবর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী সুজনের মুঠোফোন সারারাত বন্ধ ছিল।

মাদ্রাসার সকল শিক্ষকরা এ ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রথম ঘটনার পর থানায় জিডি দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ। দ্বিতীয় ঘটনার পর ওই জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত চলছে। যারাই জড়িত থাকুক বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ফম/এমএমএ/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম