।। লায়ন মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি।। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহ অত্যন্ত দ্রুত। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া- ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই সুবিধার সঙ্গে এসেছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ: ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর।
ফেক নিউজ শুধু খবরের বিশ্বস্ততা নষ্ট করে না, বরং সমাজে বিভ্রান্তি, ভয়, এবং বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। একটি সাধারণ উদাহরণ দেখুন: কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা স্থানীয় দুর্ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ তা সত্য বলে ধরে নিল- ফলে ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মতামত তৈরি হলো। কখনো কখনো এমন গুজব সহিংসতা বা ভাঙচুর পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গতি এবং প্রভাব। খবর যত দ্রুত ছড়ায়, মানুষ তার সত্যতা যাচাই করার সময় পায় না। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াও ফেক নিউজকে গ্রহণে প্রভাবিত হয়। কখনো বিষয়টি সংবেদনশীল হয়- ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত- ফলে বিভাজন আরও তীব্র হয়।
সমাধান আছে। প্রথমত, আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। কোনো তথ্য পড়লে তা যাচাই করা উচিত- বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যম বা সরকারি সূত্র থেকে। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করা উচিত। এবং সর্বশেষ, গণমাধ্যমের দায়িত্বও বড়- সত্য তথ্য সরবরাহ করা, ভুল তথ্য প্রতিরোধ করা, এবং পাঠককে সচেতন করা।
ফেক নিউজকে প্রতিহত করা শুধুমাত্র প্রযুক্তির কাজ নয়, এটা আমাদের সচেতন পাঠকের দায়িত্বও। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকে আমাদের জীবনকে সহজ করার হাতিয়ার বানাতে হবে, বিভ্রান্তির নয়। আজকের প্রজন্মকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষিত এবং সচেতন হতে হবে, না হলে আমরা তথ্যের জঙ্গলে হারিয়ে যেতে পারি।
শেষ কথা: সোশ্যাল মিডিয়া সত্যের বন্ধন, কিন্তু সতর্ক না হলে এটি বিভ্রান্তির ক্ষেত্রও হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পড়া, যাচাই এবং সচেতন শেয়ার- এই তিনটি আমাদের হাতিয়ার।
লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি, সম্পাদক, সাপ্তাহিক পাঠক সংবাদ
পরিচালক (প্রশিক্ষণ বিভাগ), বাংলাদেশি মিডিয়া ইনস্টিটিউট



