ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল নেয়ার চেষ্টা!

চাঁদপুর:  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের মধ্য সাহেবগঞ্জ গ্রামের সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তি মৃত আব্দুল আউয়াল মুন্সী। তাঁর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেনসহ অংশীদারদের পৈত্রিক সম্পত্তি স্থানীয় বাসিন্দা মো. রহুল আমিন মজুমদারসহ সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি, বিভিন্নভাবে ধমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে রুহুল আমিন মজুমদার সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালায়। এসব ঘটনায় নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

সরেজমিন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানাগেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরীর পিতা আব্দুল আউয়াল মুন্সী দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম সংসারে স্ত্রী, ৩ ছেলে ১ মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানই হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী। এই সংসারে দুই ছেলে, ১ মেয়ে ও তাঁর মা। ১৯৯৮৮ সালে আব্দুল আউয়াল মুন্সী মৃত্যুর পর প্রায় সাড়ে ১৪ একর সম্পত্তি রেখে যান। তবে তিনি এসব সম্পত্তি দুই পরিবারের সন্তানদেরকে ফরায়েজ অনুসারে ভাগ করে দিয়ে যাননি। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন চৌধুরী চাঁদপুরের বিজ্ঞ আইনজীবীদের মাধ্যমে তাদের পিতার সম্পত্তির ফরায়েজ করে অংশ বের করেন। যাতে আব্দুল আউয়াল মুন্সীর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা পান পুরো সম্পত্তির ৫১% এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানরা পান ৪৯%।

শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বর্তমানে ফ্রান্স প্রবাসী। তিনি মুঠোফোনে জানান, আমরা যা সম্পত্তি পাব। তার চাইতে দেড় একর সম্পত্তি বেশী বিক্রি করেছে আমার পিতার প্রথম স্ত্রীর ঘরের তিন সন্তান। ওই সম্পত্তির অংশীদার আমরা। শুধুই তাই নয়, তারা আমাদের অতিরিক্ত দেড় একর সম্পত্তি বিক্রি করেছে দেশের প্রচলিত কোন ধরণের আইন কানুন না মেনে। পিতার কোন সম্পত্তির মালিক না থাকলেও সর্বশেষ পাশবর্তী বাড়ীর বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন মজুমদার গংরা কোন ধরণের যাচাই বাছাই ছাড়াই আমার ভাইদের কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয় করে নেন। আমার ভাইয়রা এই সম্পত্তি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে না থাকলেও তারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের সম্পত্তির উপর লালসা থাকায় দলিল সৃজন করেন। কারণ আমার ভাইরা পূর্বেই দেড় একর সম্পত্তি বেশী বিক্রি করেছেন। বর্তমানে রুহুল আমিন মজুমদার গংরা বিভিন্নভাবে আমাদের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি বাড়ীতে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে একা থাকি। আমাকে নীরিহ পেয়ে রুহুল আমিন মজুমদার হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। গত কয়েকদিন আগে সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার জন্য ইটা ও বালু নিয়ে আসে। আমি এই বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। রুহুল আমিন মজুমদার এখন পর্যন্ত তার পক্ষে কোন সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, গত ২ আগষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় থেকে সার্ভেয়ার এসে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র চেয়েছেন। আমি আমার কাগজপত্র জমা দিয়েছি। বিষয়টি এখন নিয়মানুসারে তদন্ত এবং যাচাই বাছাই হবে। আমি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশাসনের লোকদের কাছে ন্যয় বিচার প্রার্থনা করি।

অভিযুক্ত রুহুল আমিন মজুমদার জানান, তিনি ২০০৬ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন এর ভাইদের কাছ থেকে ৬৪ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। কিন্তু তিনি এই পর্যন্ত দখলে আসেননি। কারণ তিনি নরওয়ে প্রবাসী। তার অনেক সম্পত্তি, কয়টিতে স্থাপনা নির্মাণ করবেন। তাঁর কাছে ক্রয় করা সম্পত্তির খারিজের কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। তিনি একটি প্রস্তাবিত খতিয়ান উপস্থাপন করেছেন।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম