ফরিদগঞ্জে বেপরোয়া কিশোর মোটরসাইকেল চালকরা

প্রতিকী ছবি।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের প্রতিটি সড়কেই যেনো এখন মৃত্যু ফাঁদ। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করলে এমনিই দৃশ্য উঠে আসে। সড়কে বেপরোয়া চলাচল বেড়েই চলছে মোটরসাইকেলের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভাড়া মোটরসাইকেলে চলাচল করছে। আতংক আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পথচারিরা চলাচল করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত ১ মে চান্দ্রা ছামাদিয়া ফাজিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র নাজমুল হোসেন (১৪) মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে আরেকটি মোটর সাইকেলের সাথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

গত ৭ মে উপজেলার লাডুয়া গ্রামে মোটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আমিন দেওয়ান (১৭) নামে এক যুবক নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয় আরো দু’জন।

উপজেলার মদনের গাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ীর সামনে বাজারে যাওয়ার পথে আলমগীর মিজির স্ত্রী মোটর সাইকেলের আঘাতে মারাত্মক জখম হন। এ সময় অপ্রাপ্ত এক মোটর চালকও আহত হন। চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কাজী বাড়ীর রাস্তার সামনে হাসান বেপারী (১৬) নামে এক মোটর সাইকেল চালক বেপরোয় ভাবে সামনের দিক থেকে এসে চান্দ্রা বাজারের ব্যবসায়ী গনেশ রায় (৭২) কে মারাত্বক জখম করেন। এ ঘটনায় তার দুটি পা ভেঙে যায়।

চান্দ্রা-গাজীপুর সড়কের মদনের গাঁও পাটওয়ারী বাড়ী সংলগ্ন স্থানে চাঁদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল ইসলামের মা রাস্তা পারাপারের সময় মোটর সাইকেলের আঘাতে মারাত্মক আঘাত পান। এ সময় মোটর সাইকেলের চালক ও মারাত্মক জখম হন।

২৬ মে চান্দ্রা-গাজীপুর সড়কের খাড়ঁখাদিয়া বাড়ী সংলগ্ন স্থানে মোটরসাইকেল-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী ও এক কিশোর দোকানদারসহ মোট ৩ জন আহত হন। এর মধ্যে আতিক নামে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে রেপার করেন চিকিৎসক।

এছাড়াও গত বছর এই সড়কেই মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শফিকুর রহমান (৬২) নামে এক ব্যাক্তি। চলিতে বছরের ২৯ মে উপজেলার ১১নং চর দু:খিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ নিজ এলাকায় মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

দুর্ঘটনা সম্পর্কে দেইচর মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমার ছেলেটি কলেজে পড়ে কিন্তু ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল করছে। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে। দায়ভার কে নেবে! অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে মোটর সাইকেল ভাড়া দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনে দৃষ্টি কামনা করছি।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নাজমুল ইসলামে পিতা আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, স্কুল-মাদরাসার অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কোন ভাবেই মোটর সাইকেল তুলে দেওয়া ঠিক না। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় অতি উৎসাহী হয়ে কিশোর বয়সীরা মোটরসাইলে চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্কুল-মাদ্রাসা চলাকানী সময়ে যাতে কোন কোন শিক্ষার্থী মোটর সাইকেল নিয়ে চলাচল করতে না পারে তার ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক নারায়ন রবি দাস বলেন, উঠতি বয়সের ছেলেরা মোটরসাইকেলে বেপরোয়া চলাচলের কারণে অহরহ দুর্ঘটনা হচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি অভিভাবকদের এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, সড়কে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীরা যাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল না করতে পারে সেই ব্যাপারে তদারকি চলমান থাকবে।
ফম/এমএমএ/বারাকাত/

মো. বারাকাত উল্লাহ | ফোকাস মোহনা.কম