ফরিদগঞ্জে প্রশাসনের আশ্বাসে আমরণ অনশন স্থগিত করল অসহায় পরিবার

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে টানা আমরণ অনশন স্থগিত করেছে ফরিদগঞ্জের অসহায় পরিবারের সদস্যরা। বৃহম্পতিবার রাতে স্থানীয় অফিসার্স ক্লাবে ইউএনওর সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় ভুক্তভোগী পরিবারটি।

পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা, হামলার ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা এবং ১৪৫ ধারা দায়েরকৃত মামলায় উপজেলা ভুমি অফিস কর্তৃক প্রদানকৃত রিপোর্ট প্রত্যাহারের দাবীতে গত ২ জানুয়ারি থেকে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শেখ ফরিদ তার পরিবারের সদস্যদের আমরণ অনশনে বসে।

জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের অনশনকারী শেখ ফরিদ মৃধা ও ফয়েজ মৃধা পরিবারের সাথে পাশ^বর্তী ঢাকার মুগদা থানার আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক মোশারফ হোসেন বাহার গংদের সাথে গত কয়েকবছর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে।

শেখ ফরিদ জানান, তাদেরকে অন্যায় ভাবে পৈত্রিক ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারার অংশ হিসেবে তাদের উপর গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে হামলা, ভাংচুর এবং দখলের চেষ্টা চললেও তারা প্রশাসন ও পুলিশের থেকে বাস্তবিক অর্থে কোন সহযোগিতা পান নি। ফলে তারা হতাশায় আছন্ন হয়ে বাধ্য হয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচীতে বসেন।

অনশনের চতুর্থ দিন বৃহষ্পতিবার রাতে ইউএনও তাসলিমুন নেসা অনশনকারীদের থানা পুলিশের মাধ্যমে স্থানীয় অফিসার্স ক্লাবে ডেকে নেন। সেখানে দীর্ঘ বৈঠকের পর ইউএনও তাদেরকে নৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করায় তারা অনশন স্থগিত করেন। ওই বৈঠকে ইউএনও ছাড়াও থানার ওসি আ: মান্নান, ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল, রূপসা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল, ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু বকর সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব সম্পাদক আব্দুস ছোবহান লিটন , সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

এব্যাপারে শেখ ফরিদ মৃধা শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, আমাদেরকে ইউএনও আমাদেরকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সাথে ইউপি চেয়ারম্যানও আমাদের বিষয় নিয়ে সহযোগিতা বৈঠক করার আশ্বাস দেন। তাই ১৫দিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহার লক্ষ্যে আমরা আমাদের আমরণ অনশন স্থগিত করেছি।

আরও পড়ুন>>পৈত্রিক ভূমি রক্ষায় ফরিদগঞ্জে ৪ দিন অনশন কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবার

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেসা বলেন, শেখ ফরিদ মৃধারা আসলে ভুল পথে হাটছিল। তাই তাকে বৃহস্পতিবার সকালে ডেকে একবার কথা বলেছি। পরে না শোনায় রাতে ওসি সাহেবের মাধ্যমে ডেকে এনে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে সঠিক দিশা দিতে সক্ষম হয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধানে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এছাড়া ডিসি মহোদয়ের সাথেও এই বিষয়ে কথা বলবো। শেষে তারা অনশন প্রত্যাহার করে রাতেই বাড়ি ফিরে যায়।

আরও পড়ুন>>পৈত্রিক ভুমি রক্ষায় ফরিদগঞ্জে আমরণ অনশনে পরিবার

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম