
চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা মাঠে পানির অভাবে বোরো মৌসুমে লাগানো ধানের জমিগুলো ফেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫০ একর জমিতে ধান আবাদ করা কৃষক। দ্রুত পানির ব্যবস্থা করার দাবী কৃষকদের। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে নদীতে পানি কম। কয়েকদিনের মধ্যে নদীতে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিন ওই মাঠে গিয়ে দেখাগেছে অধিকাংশ ধান আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। আবার অনেক জমির ধান পানি না থাকায় লালচে হয়ে আছে। জমিগুলোতে নির্ধারিত সময়ে পরিচর্যায় সার ও কৃটনাশক ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
ওই মাঠে ধান আবাদ করেছেন বহু কৃষক। এর মধ্যে দুলাল মালের ৩৩, শহীদুল্লাল মালের ৪৮, আরিফ সৈয়ালের ৪৫, বিল্লাল হোসেন রাজার ৯০, হাবিব বেপারীর ৫০, আবুল খায়ের বেপারীর ৪২, মহসীন বেপারীর ৬০, কাজল হক মালের ২১, আলী আকবর পাটওয়ারির ১ একর ১০শতাংশ ও মোস্তফা হাজীর ১ একর ১৫ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে।
দুলাল মাল বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে তাদের জমিতে পানি আসে। তখন নদিতে পানি ছিলো। এখন ধানগুলো বড় হওয়া এবং পরিচর্যার সময়। ঠিক এই মুহুর্তে পানি না থাকায় আমরা দিশেহারা।
কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি ৯০শতাংশ জমিতে ধান আবাদ করেছেন। পানি না থাকায় তার পুরো ধানের আবাদ ক্ষতির সম্মুখিন। খাল ও নদী কোনটাতে পানি নেই। অনেকে পুকুর থেকে সেচপাম্প দিয়ে পানি দিরেও তা পর্যাপ্ত না। এখন পুরো মাঠের জমিগুলো ফেটে আছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি না দিলে পুরো মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে এবং কৃষকদের পথে বসতে হবে।
ওই মাঠের সেচ ম্যানেজার বাচ্চু সৈয়াল বলেন, নদী ও খালে পানি নেই। যে কারণে আমি কৃষকদের পানি দিতে পারি না। কৃষকদের চাপে আমি খুবই বিপদের মধ্যে আছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রহুল আমিন বলেন, বাগাদি পাম্প হাউসের ৪টি সেচ মেশিন চালু আছে। তবে রিভার সাইডে এখন পানি কিছুটা কম। পানির অভাব দেখা দিলে বিষয়টি আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্ট দেখবে।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, খোঁজ খবর নিয়েছি, নদীতে পানি কম থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় করে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।
ফম/এমএমএ/


