পড়ার চাপ, কাজের খুঁজে মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছেন তারা

চাঁদপুর: রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে অন্যের প্ররোচনায় পালিয়ে আসা ৩ শিক্ষার্থীকে পুলিশ চাঁদপুরে উদ্ধার করেছে। পালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার রওজাতুল উলুম কওমী মাদ্রাসার অধ্যায়নরত ছাত্র ।

মাদ্রাসার পড়াশুনার চাপ সহ্য করতে না পেরে অন্যের প্ররোচনায় কাজের খুঁজে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে ঠিকানাবিহীন যাত্রা শুরু করে ৩ শিক্ষার্থী। পালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা হচ্ছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জ কদমতলী এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে জোবায়ের (১৬), একই এলাকার হাবিব সিকদারের ছেলে মোঃ ইয়ামিন শিকদার (১৫) ও ঢাকা বাবুবাজার পোস্তগোলা এলাকার আব্দুল কাইয়ুম এর ছেলে মোহাম্মদউল্লাহ্ (১৪)।

রোববার(৭ আগস্ট) রাত ১০টার পরে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন এলাকায় দীর্ঘ সময় এ তিন শিক্ষার্থীদের ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। ঘুরাফেড়া করতে দেখে চাঁদপুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর পরিচালক নুরুল ইসলাম রাজিব ও একজন সংবাদকর্মীর খবরের ভিত্তিতে সদর মডেল মডেল থানার ওসির নির্দেশে এ এসআই জাহাঙ্গীর আলম সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, মাদ্রাসার লেখাপড়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে ও অন্যেও পরোচনায় আমরা তিনজন গত শনিবার সকাল ৭টায় মাদ্রাসা খেকে পালাই। পরে সদরঘাট সকাল সাড়ে ৮টায় বোগদাদিয়া-৭, লঞ্চযোগে দুপুরে চাঁদপুর আসি। চাঁদপুরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাতে শহরের রেলওয়ে বাইতুল আমিন জামে মসজিদে ঘুমিয়ে পরি।

কেরানীগঞ্জের কদমতলী রওজতুল উলুম কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সামছুদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাদ্রাসার ৩ ছাত্র জোবায়ের (১৬), মোঃ ইয়ামিন শিকদার (১৫) মোহাম্মদউল্লাহ্ (১৪), গত শনিবার (৬ আগষ্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি পর তাদের না পেয়ে অভিভাবকদের অবগত করে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করি। রোববার রাত ১০টার পর চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ ৩ ছাত্রকে পেয়েছেন বলে আমাকে অবগত করেন। আমি নিখোঁজ ছাত্রদের অভিভাবকদের নিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, তিন মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে তাদের সাথে কথা বলে পালিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

ফম/এমএমএ/

মো. শওকত আলী | ফোকাস মোহনা.কম