প্রশ্ন থেকে গেলো

যুবক অনার্য

আমি জীবনানন্দের কথা বলবো,
বলবো কমলকুমার মজুমদারের কথা
সেই সংগে বিনয় মজুমদার
সেই সংগে আমার গুরু শৈলেশ্বর ও মলয় রায় চৌধুরীর কথাও বলতে চাই –
কীভাবে তারা আবিস্কার করেছিলেন নিজস্ব ভাষা
এ সকল ভাষার ভাষান্তর হতে পারে
তবে অনুবাদ হওয়া সম্ভব নয়
ব্রাকেটে একটি ঝুকিপূর্ণ সত্যের কথা বলি-
জীবন বাবুকে বহির্বিশ্ব তেমন করে চেখে দেখতে নারাজ,
কারণ হতে পারে – এরকম টেস্ট পাঠক
পেয়ে গেছেন ডাব্লিউ বি ইয়েটস ব্যবচ্ছেদ ক’রে
কারণ হতে পারে – তার ভাষার ভাষান্তর হতে পারে কিন্তু শৈলির অনুবাদ সম্ভব নয়
কমলকুমারের ‘অন্তর্জলী যাত্রা’পাঠকের কাছে মনে হতেই পারে – এটা একটি দীর্ঘ গল্পও হতে পারতো
লেংথ বাড়িয়ে উপন্যাস করে ফেলা হয়েছে
উপন্যাসের কি কোনো নির্দিষ্ট লেংথ থাকে-
প্রশ্ন থেকে গেলো
বিনয় প্রথমত জীবনানন্দ প্রভাবিত
ফিরে এসো চাকা’য় নিজস্ব ভাষায়
জানান দিলেন নিজেকে
আর শক্তি?জীবনানন্দে জন্ম নিয়ে মরে গেলেন জীবনানন্দেই, তবে চতুর্দশপদী কবিতাগুলি
‘ আমি সেচ্ছাচারী’, ‘তবে চলো ভাটিখানায় যাই’ এ সকল কবিতায় স্বাতন্ত্র্য রয়েছে – বলা ভালো;
বলা ভালো যে, বিষয়বস্তুতে ততোটা বহুমাত্রিক শক্তি নন যতোটা শামসুর রাহমান
গুরু শৈলেশ্বর আর মলয় বাবু হাংরি কবিতা লিখে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন – এ কথা প্রাতিষ্ঠানিক কবিগণ মেনে নিতে চাইবেন না – সেইতো স্বাভাবিক
আর উৎপল কুমার? আশির দশকের কবিগণ
যে আবেগ সংহত কবিতার কথা বলেন
উৎপল তা লিপিবদ্ধ করে গেছেন
কবিতার আঙ্গিকে সেই পঞ্চাশের দশকেই-
আমার এ কথায় আশির কবিগণ তেড়ে আসবেন,
ভালো হতো মুখ হাত নিয়ে না এসে কলম নিয়ে তেড়ে আসতেন যদি; কেননা সেইটাই
যোগ্যতার পরিচয়
যেমন হুমায়ুন আজাদ স্যার যিনি আমার খুব বেশি
প্রিয় মানুষ প্রিয়তম প্রতিভা- ধারালো কলম তার,
ধারালো কলমে তিনি কিছুটা হলেও ভোতা কাজ করে গেছেন
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ভাইকে
অবমূল্যায়ণ করেছেন এবং উপন্যাসিক হিসেবে সৈয়দ হক -কে ইলিয়াস ভাইয়ের চেয়ে করেছেন অধিক ডিগনিফাই
তিনি কেনো করেছেন এরকম – প্রশ্ন থেকে গেলো
প্রশ্ন রয়ে ফেলো -হুমায়ুন আহমেদ স্যার
ও ইমদাদুল হক মিলন ভাইকে সর্বপ্রথম
লেখকের স্বীকৃতি দিয়েছেন যে মনিষী
তিনি হলেন আহমদ ছফা
সেই স্বীকৃতি কি মনে রেখেছিলেন
হুমায়ুন স্যার,
মনে কি রেখেছেন সুপ্রিয় মিলন ভাই!
হুমায়ুন স্যারের সংগে দেখা হলে প্রশ্ন করা যেতো – যখন আপনার বই বিক্রি হয় এক লাখ কপি, শহীদুল জহিরের বই তখন বিক্রি হয় হাতে গোনা পাঁচ কপি- কেনো? স্যার কি রেগে যেতেন!

প্রশ্ন তো থেকেই গেলো – ‘ সে কেনো জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা কথা কয় ‘, যেনো নিজেরই মুদ্রাদোষে হতেছি আলাদা ‘ ( বলছি এলিয়টের প্রু ফ্রকের কথা স্মরণে রেখেই) — এরকম তাজা আধুনিকতাবাদ বাংলা কবিতা আজ অব্দি
পেরেছে অতিক্রম ক’রে যেতে!

ফোকাস মোহনা.কম