প্রধানমন্ত্রী জনগণের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছেন : শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুর: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল জনগণের উন্নত ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ তিনি যেখানেই বসবাস করেন না কেন, চরে হোক, হাওড়ে হোক অথবা পাহাড়ে হোক যেকোনো জায়গায় হোক, সে যেন একটি উন্নত সুন্দর জীবন পায় তা তিনি নিশ্চিত করছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল, হাইমচর ও গাজীপুর ইউনিয়নের অফ গ্রিড (চর) প্রত্যন্ত এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেকদিন পর চরাঞ্চলে আসলাম। আগের চাইতে এখন প্রতিটি ঘরই খুব সুন্দর। আগে যে রাস্তা মাটির ছিল। এখন সেই রাস্তায় ইটা বিছানো। কয়েকদিন পর এই সড়কগুলোই পাকা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আগে পায়ে হেটে বাড়িতে বাড়িতে আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে এসেছি কয়েক মাইল। এখন উন্নয়ন হয়েছে, তাই অটোরিকশা করে এসেছি, যার কারণে অনেকের সাথে কথা বলতে পারিনি। উন্নয়নের কারণে আপনারা সবাই আগের চাইতে অনেক ভাল আছেন। আল্লাহর ইচ্ছা এসব হয়েছে। এরপর উচিলা হিসেবে শেখ হাসিনার কারণে এসব উন্নয়ন কাজ সম্ভব হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ভাবতে পারি চরের মধ্যে সর্বোচ্চ সৌর বিদ্যুৎ থাকবে। কিন্তু বিদ্যুৎ আসবে আপনারা কখনো ভাবেননি। আজকে আপনাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। সড়কের উন্নয়ন। আপনাদের গায়ের পোষাকগুলোও আগের চাইতে ভাল। এসব দিয়েও উন্নয়নের রূপ দেখা যায়। শিশুদের স্বাস্থের অবস্থাও ভাল। সবমিলিয়ে আমরা বলতে পারি, আল্লাহ আমাদের একটি উন্নত জীবন দিয়েছে। আর এ জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য সুস্থতা কামনা করি।

মন্ত্রী বলেন, আপনাদের সকলের দাবী হচ্ছে চরাঞ্চলকে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা করা। তবে নদী শাসন করা খবু সহজ কাজ নয়। ২০০৮ সালে আমি প্রথম নির্বাচনের সময় এসে কথা বলে দেখেছি আপনাদের কষ্ট। এসে দেখলাম একজনের বাড়ী কয়েকবার ভাঙছে। বার বার বাড়ী ঘর সরাতে হচ্ছে। আমার কাছে বিষয়টি খুবই বেদনা দায়ক মনে হয়েছে। আমি তখন বলেছি, আমি যদি নির্বাচিত হই। তাহলে আপনাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। নির্বাচিত হওয়ার পর আমি কথা রেখেছি। হাইমচর-চাঁদপুর মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা বাধ হয়েছে। ১৯ কিলোমিটার বাধ নির্মাণ হয়েছে। অল্প কিছু বাকী ছিল, সেই কাজ চলমান রয়েছে। চাঁদপুর শহর রক্ষা বাধের কাজও শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।

দীপ মনি বলেন, চরাঞ্চল বাধ দেয়ার প্রসঙ্গে আসলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলে চর কিভাবে বাধবো। চরে বাধ দেয়া খুবই কঠিন কাজ। কঠিন হলেও যেসব এলাকায় বেশী ভাঙে সেখানে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এসব ভাঙন প্রতিরোধের জন্য মন্ত্রণালয়গুলোতে যোগাযোগ করছে। আমরা চেষ্টা করছি চরাঞ্চল স্থায়ী বাধ নির্মাণ করার জন্য। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান সকল মানুষ ভাল থাকুক। কোন লোকজ যেন নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বশান্ত না হয়।

এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ, নৌ পুলিশ চাঁদপুর বিভাগের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জাল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাড. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাইমচর উপজলো পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওযারী, নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন, শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার আলী।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ৪ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবণসহ ১৪৪ কিলোমিটার লাইন টেনে ৪৯ টি গ্রামের ২০০১ জন গ্রাহক বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। এতে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।
ফম/এমএমএ/

শাহরিয়া পলাশ | ফোকাস মোহনা.কম