‘প্রতিবছর ব্যক্তিগত সম্পদ আয়-ব্যয় প্রকাশের অঙ্গীকার’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আকবর হোসেন মনির

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে (তালা) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আকবর হোসেন মনির। তারুণ্যের উদ্যোমতায় ভরা এ যুবক ইতিবাচক ধারায় ফরিদগঞ্জ উপজেলাকে বদলে দিতে চান। নিশ্চিত করতে চান দলমত নির্বিশেষে জনগণের ন্যায্য অধিকার। সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক কৌশল, ব্যবহার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণসহ ইতিবাচক নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে আকবর হোসেন মনির আওয়ামী লীগ ছাড়াও সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আকবর হোসেন মনিরের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। কেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কবি হেলাল হাফিজের লেখা নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতার বিখ্যাত চরণ ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়; এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ উদ্ধৃত করে বলেন, অসাধ্যকে সাধন করার উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে যৌবন। যা কিছু ভালো, মানবিক ও কল্যাণকর তা এখনই করো। উপজেলাবাসীর কল্যাণে দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজ করার উৎকৃষ্ট সময় এখনই বলে আমি মনে করি।
অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ থাকলেও ফরিদগঞ্জে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সবসময় ফরিদগঞ্জ উপজেলা অবহেলিত ও উন্নয়নে পিছিয়ে। যা দেশের অন্যান্য উপজেলার দিকে তাকালে স্পষ্ট। নাগরিকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় নামকাওয়াস্তে একটি প্রতিষ্ঠান রূপ নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জে গ্যাস সংযোগ থাকলেও এখানে নেই। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। এছাড়া উপজেলার অনেক রাস্তাই এখনো কাঁচা। জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তা ভাঙাচুরা, জনসাধারণের চলাচলের অনুপযুক্ত। এখানে নেই সু-শাসন। উল্লিখিত সমস্যাগুলো জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমার চেষ্টা থাকবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসকল সমস্যা সমাধান করা।
তিনি আরও বলেন, আমার লক্ষ্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা। সেক্ষেত্রে সকল নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, মেয়র-কাউন্সিলারকে সাথে নিয়ে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবো।
উপজেলা পরিষদের সম্পদ বৃদ্ধিসহ স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করবো। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিধি ও বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টিতে সচেষ্ট হবো।
নাগরিকদের মৌল ও মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করতে খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা প্রভৃতি স্থানীয় মানুষদের সংগঠিত করে সামাজিক পুঁজি গঠন তথা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি সহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
এছাড়া, আমাদের সমাজে বিরাজমান পারস্পরিক বিরোধিতার যে সংস্কৃতি তার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ সহ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
উপজেলা পরিষদকে প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবো। পাশাপাশি বছরভিত্তিক জন অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সহ অগ্রাধিকার নির্ণয়পূর্বক বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবো।
এছাড়া, ৬ মাস পর পর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন কর্মপদ্ধতি হাতে নেব।
উপজেলা পরিষদের সকল কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত বরাদ্ধের তথ্য নিয়মিত গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরবো। দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে জনগণের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে কাজ করবো।
বিশেষ করে নারীর অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার থাকবে। ইভটিজিং বন্ধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক, খুন, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবো।
এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং প্রতিবন্ধীসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবো এবং তাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।
শিক্ষাবিস্তারসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবো এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বেকার যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবো এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। সমগ্র উপজেলাতে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষাসহ সৌন্দর্য্য বর্ধনে সচেষ্ট থাকবো। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যে কোন ধরনের পরিবেশ দূষণরোধে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবো। প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদ, আয়-ব্যয় ও দায়-দেনার হিসাব প্রকাশ করবো।
উল্লেখ্য, আকবর হোসেন মনির ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদস্য, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম