প্রতারণার অভিযোগ : প্রবাসীর স্ত্রী ও পুলিশ সদস্য কারাগারে

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে মুঠো ফোনে পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে প্রতরণা করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করে ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাতার প্রবাসী রিপনের স্ত্রী রাজিয়া সুলতারা আইরিন (৪১)কে দুই বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ড ও পরকিয়া প্রেমিক পুলিশ সদস্য বিটূ আলীকে অবৈধ পরকিয়ায় জড়ানোর অভিযোগে দেড় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: কামাল হোসাইন এই রায় প্রদান করেন। এসময় আদালতে আসামীদ্বয় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

দায়েরকৃত মামলার আর্জি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পুত্র রিপন কাতার প্রবাস কর্মরত ছিলেন। তাদের বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আইরিন এবং দুই কন্যা ও এক পুত্র নিয়ে তাদের সুখের সংসার ছিল। ফলে রিপন তার উপার্জিত সকল অর্থ সম্পদ তার স্ত্রীর নামে ফরিদগঞ্জ মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাঠায়। একই সাথে জমি ক্রয় ও বিপুল পরিমানে স্বর্ণালংকারও কিনে দেয়। কিন্তু রিপন প্রবাসে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আইরিন মুঠো ফোনের মাধ্যমে বগুড়ার পুলিশ সদস্য বিটু আলীর সাথে পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রিপনের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আইরিন ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারী থেকে ১৪জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকে গচ্ছিত ৯৮ লক্ষাধিক টাকা উঠিয়ে নেয়। সর্বশেষ ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ঘরে থাকা ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে রাজিয়া সুলতানা আইরিন পরিকয়া প্রেমিক পুলিশ সদস্য বিটু আলীর সাথে পালিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে রাজিয়া সুলতানা আইরিন রিপনকে তালাক দিয়ে পুলিশ সদস্যকে বিয়ে করে।

ঘটনার সময় রিপন প্রবাসে থাকায় তার চাচা টুটুল পাটওয়ারী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের (সি আর ৮৪১/২১) করে। বিজ্ঞ আদালত স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের শুনানী শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামী রাজিয়া সুলতানা আইরিনকে ৪০৬ ধারায় প্রতারণার অর্ভিযোগে ২ বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং পরকিয়া প্রেমিক পুলিশ সদস্য বিটু আলীকে ৪৯৭/৪৯৮ ধারায় অবৈধ পরকিয়ার অভিযোগে দেড় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের রায়ের বিষয়টি বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাড. দুলাল মিয়া পাটওয়ারী নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামীদের পক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাড. দেবাশীষ কর মধু।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম