পিতা-পুত্রের পিটুনিতে রক্তাক্ত জখম মসজিদের ইমাম

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

চাঁদপুর:  মোটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় জায়গা না দেয়াকে কেন্দ্র করে পিতা দুলাল মৃধা ও বখাটে ছেলে মেহেদীর হাতে চরম পিটুনির শিকার ও রক্তাক্ত জখম হয়েছেন চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী ঈমানিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ ইউসুফ খান (৬২)।

সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে ঈমানিয়া জামে মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। একজন প্রবীণ ইমামকে এভাবে রক্তাক্ত জখম করায় এলাকাবাসীর মাঝে এখন চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ইমাম ইউসুফ খান জানান, দুপুরে তিনি জোহরের নামাজ আদায় শেষে এলাকার এক মুসল্লীর বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হঠাৎ একই এলাকার দুলাল মৃধার ছেলে মেহেদী মৃধা পেছন থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি হরণ দেন। তিনি মোটরসাইকেলটিকে সাইট দিতে গিয়ে রাস্তার একপাশে চলে যান। কিন্তু রাস্তার পাশে দেয়াল থাকায় তিনি আর কোন দিকে নড়তে পারেননি। আর এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বখাটে মেহেদী ইমামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে তার হাতের মধ্যে স্টিলের রিং পরে এলোপাতারিভাবে ইমামের গায়ে আঘাত করতে থাকেন। একই সাথে মেহেদীর পিতা দুলাল মৃধাও ইমামকে কিল, লাথি, ঘুষি দিয়ে আঘাত করেন। মেহেদীর হাতে পড়া স্টীলের রিং দিয়ে ইমামের মাথায়, চোখে, মুখে, বুকে, হাতে ও পিঠে আঘাত করায় তিনি রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর পর স্থানীয় লোকজন ইমামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষ্ণুদী এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, দুলাল মৃধা ও তার ছেলে মেহেদী এলাকায় এ ধরণে অনেক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা কাউকে মানেন না। মেহেদী মাদকের সাথেও জড়িত আছে। তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।

আহত ইমাম মাওলানা ইউসুফ খান এর পূর্বে শহরের বাসস্ট্যান্ড গৌর-এ-গরিবা জামে মসজিদে দীর্ঘ ১৭ বছর ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আহত ইমামের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম