পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে মোশা মারতে কামান ব্যবহার: এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কে

চাঁদপুর: বিদ্যুৎ জনজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিদ্যুৎ বিহীন একটি মূহুর্ত মানবজীবনে কল্পনা করা অসম্ভব। আর এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় যদি কোন ধরনের অসংগতি অবহেলা দেখা দেয় তাহলে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে জনমনে আতঙ্ক। এমনি ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুর ১৩২/৩৩ কেভি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ উপকেন্দ্র এলাকায়। সংরক্ষিত এলাকায় এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে করা হচ্ছে পরিস্কার ও খনন কাজ। আর এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার বালুর মাঠ এলাকায় সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর ১৩২/৩৩ কেভি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রের বিদ্যুৎ টাওয়ারের পাশে বড় আকারের ধাতব ভেকু মেশিন দিয়ে করা হচ্ছে আগাছা পরিষ্কার ও খনন কাজ। এর পাশে রয়েছে চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিতরণ কেন্দ্র। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান থাকায় সীমানা প্রাচীর থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।এমনকি তারা আতঙ্কে ও দেন কাটাচ্ছেন।

এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত কয়েক দিন আগে বিদ্যুত কেন্দ্রের এই বাউন্ডারির ভিতরে একটি ভেকু মেশিন রাখা হয়েছে। যা দিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি পরিষ্কার ও খনন কাজ চলমান থাকে। বিদ্যুতের টাওয়ারের পাশেই এই ভেকু দিয়ে কাজ করায় বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছি আমরা। যদি কোন কারণে বিদ্যুতের এই টাওয়ারের সাথে ভেকু মেশিনটি ধাক্কা লাগে অথবা মাটি খনন করতে গিয়ে টাওয়ারটি ভেঙ্গে পড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আমাদের এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তারা বলেন, আমরা এই বিদ্যুৎ পাওয়ার গ্রিডের এই বাউন্ডারির পাশেই অনেকগুলি পরিবার বসবাস করি। জনস্বার্থে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ কেন্দ্রে এই ধরনের নিয়ম বহির্ভূত কাজ আমাদের কাম্য নয়। প্রতিদিন রাতে ভেকু মেশিনের শব্দে ও আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে থাকি। যদি কোন কারনে দুর্ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে আমাদের এলাকার পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। অতীতে এই ধরনের মেশিন দিয়ে কাজ করতে দেখিনি। তাই আমরা চাই বিদ্যুৎ অফিস নিয়মের মধ্যে থেকে তাদের সকল কাজ পরিচালনা করুক। প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই অতিসত্বর ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করা বন্ধ করা হয়। এবং আমাদের জনমান যেন স্বস্তি ফিরে আসে।

ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করাটা নিয়মের মধ্যে আছে কিনা এই বিষয়ে চাঁদপুর ১৩২/৩৩ কেভি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (মেনটেনেন্ট ইনচার্জ) মোঃ রহমত উল্লাহ বলেন, কয়েকদিন পূর্বে মেশিনটি দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। কোন ধরনের ঠিকাদার ছাড়াই আমরা নিজেরাই কাজটি পরিচালনা করছি। ভেকু মেশিনটি বাউন্ডারির অনেক ভিতরে থেকে কাজ করছে। বাকি বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে জেনে নিলে ভালো হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা (জিএমডি) গ্রিডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জসীম উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের এখানে বেশ কিছু ময়লা আবর্জনার স্তুপ হয়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আমরা এগুলি নিষ্কাশন এর জন্য এই ভেকু ব্যবহার করছি। আমাদের স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে তারা প্রটেকশনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ভেকু ব্যবহার করছে।আশা করি তেমন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে না।

ফম/এমএমএ/

মিজান লিটন | ফোকাস মোহনা.কম