‘পতিত সরকারের দোসররা দেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে’

হানারচরে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশে জেলা নেতারা

চাঁদপুর: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ওবায়দুল কাদেরের দেশত্যাগ আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ইউনুস সরকারের প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই খুনিদেরনদেশত্যাগ সম্ভব নয়। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় সেনা হেফাজতে থাকা আওয়ামী খুনিরা কোথায় এ প্রশ্ন আজ দেশবাসির। অবিলম্বে খুনি হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক সকল আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৩ নং হানারচর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সিনিয়র সহসভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামাল গাজী সোহাগ, প্রচার ও দাওয়াহবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, সদর উপজেলা সভাপতি ডা. বেলাল হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলন চাঁদপুর জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন বলেন, এ সরকারের প্রতি দেশের জনতার এতো সমর্থন রয়েছে যা অতীতে কোনো সরকারের প্রতি ছিলো না। তাহলে খুনিদের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে ভয় কিসের? কোনো চাপের কাছে এ সরকার মাথা নত করবে না এটাই জনতার আকাঙ্ক্ষা। জনতার আকাঙ্খা পূরণে সরকার আরও আন্তরিক হবে এটা সরকারের প্রতি জনতার প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হামলা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের বাড়াবাড়ি অতিমাত্রায় পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর বিএসএফ পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। সময় এসেছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। তিনি আরও বলেন, শুধু সীমান্ত হত্যা নয়, ভারত আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও বেশি নাক গলাচ্ছে। যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। প্রতিবেশি হয়ে থাকার পরিবর্তে ভারতের খবরদারিসুলভ আচরণ স্বাধীন দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। রক্তে কেনা স্বাধীনতা নিয়ে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। প্রধান অতিথি আরও বলেন, আগামি নির্বাচন যেনতেনভাবে করলে ফ্যাসিবাদেরই জয় হবে। যা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। গণমানুষ এখন পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চায়। আগামি  নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজন  করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সকল নিহতদের রাষ্ট্রীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। আহতদের অনেকেই চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।  এটা প্রত্যাশা ছিলো না। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে নিয়ে আসতে হবে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে গোটা দেশের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত সাপোর্ট রয়েছে। আপনারা সাহসিকতার সাথে সকল খুনিদের খুঁজে বের করে আনুন। হাসিনাসহ পলাতক সবাইকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এখন ফ্যাসিবাদের সুরে কথা বলছে। কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়া হচ্ছে।  আমরা পরিস্কার বলতে চাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি। দেশের মানুষই এখন নির্ধারণ করবে দেশ কোন গতিতে চলবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মেসেজ শুধু বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন,  রোমহষর্ক বিডিয়ার ট্রাজেডির বিচার কোন অবস্থায় আছে জাতিকে তা জানাতে হবে। নির্দয় নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এতগুলো অফিসার হত্যার মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করার নীলনকশারই অংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনতার প্রত্যাশা হলো বিডিয়ার ট্রাজেডিসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত শেষ করা।
১৩নং হানারচর ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা মজিবুর রহমান, হাফেজ মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবু সাইদ বেপারি প্রমুখ।
বক্তারা গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আগামিতে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
ফম/এমএমএ/

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | ফোকাস মোহনা.কম