নোয়াখালীতে চাঁদপুর ১৮ ক্রিকেট দলের অবস্থা !

৩ ম্যাচের মধ্যে দুটি ম্যাচেই হেরেছে

চাঁদপুর: বাংলাদেশের সর্বত্রই যখন ক্রিকেটের জোয়ার বইছে চাঁদপুর যেনো একটু ব্যাতিক্রম হয়ে উঠেছে। অথ্যা চাঁদপুর জেলার অনুর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দলটি এবারের ফেনীতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট ম্যাচগুলোতে তেমন ভালো কোন রেজাল্ট করতে পারেনি। ৩টি ম্যাচের মধ্যে প্রথম দু’টি ম্যাচেই তারা বিশাল ব্যবধানে হেওে যায়।

আর এ ম্যাচগুলোতে হারার পর চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বেশ ক’জন কর্মকতাসহ সাবেক ক্রিকেটাররা হতাশ হয়ে পড়েন। আবার অনেক ক্রীড়া সংগঠক এমনকি ক্রিকেটের সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদেও বক্তব্য হচ্ছে বতর্মান ক্রিকেট উপকমিটিতে যারা দায়িত্বরত ছিলেন এদেও অনেকেই খেলার অনুশীলন কিংবা ম্যাচ বিদায় নেয়ার সময় কোন খোজ-খবর রাখেনি।

আবার জেলার এই বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দলটি যখন অনুশীলন করতে থাকে তখন তারা বলের অভাবে ঠিকমতো ব্যাটিংও বোলিং করতে পারেনি। হয়তো জেলা ক্রীড়া সংস্থা এ বিষয়টি ইচ্ছে করেই খেয়াল করেননি। আর এর কারনেই নোয়াখালীতে জেলা ১৮ ক্রিকেট দলের এমন অবস্থা দেখলো জেলাবাসী। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে নোয়াখালীতে ইয়ং টাইর্গাস অনুর্ধ্ব ১৮ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলো চাঁদপুর অনুর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দলটি।

নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত ইয়ং টাইর্গাস অনুর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম খেলোয় চাঁদপুর হারলো চট্টগ্রাম জেলা ক্রিকেট দলের সাথে এবং ২য় খেলায় চাঁদপুর আবারো হেওে যায় হবিগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দলের সাথে। যেখানে হবিগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দল চাঁদপুরের দলের থেকে ছিলো অনেক অভিজ্ঞ কম। কিন্তু ওই দলের সাথেও হেওে যাওয়ার পর অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বরত সিনিয়র এক কর্মকতা। বলতে থাকে এটা কি দল । যে তারা শুধু হেরেই যায় দলটি ব্যাপাওে পারলে কিছু লিখেন। তারা কোন কারনে ম্যাচগুলোতে এতো বাজে পারফরমেন্স করলো।

জানা যায়, এবারের জেলা দল গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা ঠিকমতো ক্রিকেটার বাছাই না করার কারনেই এ ধরনের ঘটনা হচ্ছে বলে স্টেডিয়াম পাড়ায় শোনা গেছে। আবার অনেকেই এবং বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকতারা বলতে থাকেন জেলার ফুটবলের মতো যদি ক্রিকেট দল গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা এমনকি ক্লাবগুলোর ক্রিকেটারদেও সুযোগ দেয়া হতো তাহলে হয়তো ক্রিকেটের রেজাল্ট ভালো পাওয়া যেতো।

এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপকমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যারাই দায়িত্বে রয়েছেন তারা ক্রিকেট দলগুলোর তেমন কোন খোজ খবর না রাখার কারনেই এমন রেকড হচ্ছে ক্রিকেট দলের। আর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপকমিটির অবহেলার কারনে জেলা স্টেডিয়ামে ঠিকমতো ক্রিকেট লীগ কিংবা ক্রিকেট টুর্নামেন্টর ও আয়োজন সফলভাবে শেষ হচ্ছেনা। আবার ক্রিকেট উপকমিটির পুরনো অনেক ক্রিকেট ম্যাট এখনও আয়োজন করতে পারছেনা । আর এ জন্য জেলার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের এই অবস্থা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় নোয়াখালীতে শুরু হয়েছিলো ইয়ং টাইর্গাস অনুর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যাবস্থাপনায় চাঁদপুর ছিলো ‘সি’ গ্রুপে। নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে চাঁদপুর অংশ নেয় চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও বান্দরবান জেলা ক্রিকেট দলের সাথে । চাঁদপুর শুধুমাত্র বান্দরবান জেলা ক্রিকেট দলের সাথে জয়ী হয়।

চাঁদপুর জেলা দলের ১৮ সদস্যেও দলটিতে কোচের দায়িত্ব ছিলেন ক্রিকেট কোচ জয়নাল হোসেন ও টিম ম্যানেজার সানি। দলের খেলোয়াড়রা হলো- সাইফুদ্দিন বাবু, রাকিবুল ইসলাম আলিফ, তোফায়েল আহমেদ, কামরুল হাসান, অমি, সাখওয়াত, হাসান গাজী, তামিম সাদমান, আরিফ আহমেদ, রবিউল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আজহারুল ইসলাম, ওমর মিয়াজী, মাহিদ মিয়াজী ও মোঃ রাব্বি।

এ ব্যাপারে দলের দায়িত্বরত টিম ম্যানেজার সানি’র সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রথম যে দুটি ম্যাচ খেলেছি প্রতিটি ম্যাচেই ছিলো আমাদেও টার্গেট ম্যাচ। আর এ টার্গেট ম্যাচ খেলার তেমন অভিজ্ঞতা ছিলোনা আমাদের দলের ক্রিকেটারদের। আর এ কারনেই আমাদেরকে হারতে হয়েছে। আমাদেও খেলোয়াড়দের যদি ২য় ইনিংসে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা থাকতো তাহলে হয়তো ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো কিছু করতে পারতাম ।

ফেম/এমএমএ/চৌইই/

চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম | ফোকাস মোহনা.কম