নিষিদ্ধ ট্রাক্টরে মাটি বহন করায় কচুয়ার রাস্তাগুলো এখন মরণফাঁদ

কচুয়া (চাঁদপুর): চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসন দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন, খননকৃত মাটি বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনবরত নিষিদ্ধ ও অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে পলি মাটি বহন করায় রাস্তা গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে,অন্যদিকে কমে যাচ্ছে রাস্তার দীর্ঘস্থায়ীত্ব। রাস্তা গুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ধুলোময় রাস্তায় পরিণত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে পাকার উপর কাদার আবরণ তৈরী হয়ে রাস্তাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে অবৈধ ট্রাক্টর রাস্তা গুলোকে মরণফাঁদে পরিনত করছে। বিষয়গুলি দেখেও যেন না দেখার ভান করছে উপজেলা প্রশাসন।

আবার এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হলেও এ বিষয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। আর প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কচুয়া উপজেলার ৬নং উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের দারচর গ্রামে ফসলি জমি বিনষ্ট করে প্রায় একমাস যাবত জমি থেকে মাটি কাটার মহা উৎসব পড়েছে। প্রতিদিন ওই ইউনিয়েনর দারচর গ্রামে থেকে মাটি অবৈধ ৩৫/৪০টি ট্রাক্টর দিয়ে করইশ,কোরকাশা,উজানীসহ বিভিন্ন গ্রাম নিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাকা রাস্তা ধুলাময় হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারীরা।এতে করে জনস্বাস্থ্য মারাত্নক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়ছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু শিক্ষার্থী,এম্বোলেন্স,মোটরসাইকেল,অটো রিকশা,সিএনজিসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বেপরোয়া ট্রাক্টরের গতিবিধির কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত আতংকে থাকে। পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ হয়ে দু’পাশ ডেবে গেছে। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। ফলে নানান যানবাহন স্লিপ কেটে পাশের খালে কিংবা খাদে পড়ে যেতে প্রায়ই শোনা যান।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বেশ কয়েকজন ট্রাক্টর মালিক বলেন, আমরা সকলকে ম্যানেজ করেই মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। রাস্তা গুলোর বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, গাড়ী চলাচল করার জন্যই সরকার রাস্তা করে দিয়েছে। ভেঙ্গে গেলে আবার নতুন করে করবে।

রাস্তার পাশের একাধিক বাড়ির মালিক বলেন, ধুলোবালিতে আমরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছি। কার কাছে গেলে স্বস্তি পাব এমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না।

ইউপি চেয়ারম্যান এম আখতার হোসাইন বলেন,অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলে বাধাঁ দেওয়া হয়েছে। তারা কোন বাধা মানে না।

এলজিইডি কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলী লিটন বলেন, ইতিমধ্যে মধ্যনগর থেকে উজানী পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। জন সাধারণের স্বার্থে রাস্তাটি রক্ষার্থে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহন বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ফম/এমএমএ/ইসমাইল/

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব | ফোকাস মোহনা.কম