নিজ বাড়িতে আলাদা নামাজঘর

একটি সুন্দর পরিকল্পনা

।। মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ।। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত মুসলমানদের মুখে প্রায়ই এ প্রশ্ন শোনা যায় যে বাথরুমে অজু করলে দোয়া কিভাবে পড়ব। এই প্রশ্ন তৈরি হওয়ার কারণ দুটি-এক. অজুর জন্য ঘরে আলাদা জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাথরুমে অজু করতে হয়।

দুই. বাথরুম অপবিত্র জায়গা, এখানে অজুর দোয়া বা আল্লাহর নাম মুখে কিভাবে নেবে। কিন্তু প্লট বা ফ্ল্যাটের মালিকরা ঘরের ডিজাইনের আগে বিজ্ঞ আলেমদের সঙ্গে কথা বলেন না। যখন ঘরের কাজ শেষ, তখন নানা সমস্যায় পড়ে মাসআলা জিজ্ঞেস করে থাকেন। অথচ আগে থেকে একটু সচেতন হলে এবং বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নিলে ঘরে বা বাড়িতে আলাদাভাবে অজুর জন্য জায়গা করে নেওয়া যেত। সমস্যা শুরুতেই সমাধান হয়ে যেত। একইভাবে ঘরে কোথায় নামাজ পড়বে—এটা নিয়েও ইতস্ততা দেখা যায়। অথচ রাসুল (সা.) ঘরে সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করতেন। মহানবী (সা.) ঘরকে ইবাদতশূন্য রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ে ফেলো না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৭৭)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ‘তোমরা ঘরকে তিলাওয়াত ও নামাজশূন্য করে শুধু ঘুমানোর স্থান বানিয়ে ফেলো না। কেননা ঘুম আর মৃত্যু হলো সহোদর ভাইয়ের মতো। মৃত ব্যক্তি কোরআন পড়ে না, নামাজও আদায় করে না।’ (ফাতহুল বারি : ১/৫২৯)

ঘরোয়া মসজিদ একদম সহজ একটি কাজ। যাদের বাড়িতে বাড়তি কক্ষ আছে, তারা একটি কক্ষকে ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করতে পারে। সেই কক্ষে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া যায়। কোরআনের কয়েকটি কপি ও প্রয়োজন অনুসারে জায়নামাজ প্রভৃতি রাখতে পারেন।

যারা ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন কিংবা আলাদা কক্ষ বের করা কঠিন—তাদেরও চিন্তার কিছু নেই। আপনার ড্রইং রুম বা অন্য যেকোনো কক্ষের একটি অংশকে ঘরোয়া মসজিদ হিসেবে সাজিয়ে নিতে পারেন—যেখানে দু-একজন সদস্য নামাজ আদায় করতে পারেন।

যারা নতুন বাড়ি বানাচ্ছেন কিংবা ভবিষ্যতে বানাবেন, চাইলে তাতে একটি রুমকে কেবলামুখী করে নামাজ ঘরের জন্য ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। আর ওই রুমকে কারুকার্যখচিত দেয়াল, নয়নাভিরাম ইসলামী দৃশ্য, ইসলামী বইভর্তি বুকসেলফ ও জায়নামাজ রাখার সিম্পল আলনা ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

কল্পনা করুন, রুম স্প্রে কিংবা আতর ইত্যাদি সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া একটা কক্ষে নামাজ পড়তে কেমন লাগবে!

ফোকাস মোহনা.কম