নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চরাঞ্চলবাসীর পাশে থাকবো

---------- মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদ নীলকমল ইউনিয়ন। বিশাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে এই জনপদে যেতে হয়। বিকেলের পর আর সে এলাকায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এমন একটি জনপদে গিয়ে সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গণসংযোগ করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি তাঁর সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ও যুবসেনার নেতৃবৃন্দসহ গিয়ে দিনভর গণসংযোগ করেন। সাথে ছিলেন নীলকমলের প্রায় অর্ধশত নবী প্রেমিক, ওলী প্রেমিক, সুন্নী মুসলমান। মাঝির বাজার এলাকা থেকে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এসব এলাকার দিনমজুর, ব্যবসায়ী, আলেম ওলামা, ছাত্র যুবকদের সাথে নিয়ে তিনি গ্রামের পর গ্রাম পায়ে হেঁটে, দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে এবং খালের পানি ভেঙ্গে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যান। এছাড়া সবচেয়ে বড়ো বাজার সাহেবগঞ্জ বাজারের কয়েক হাজার দোকান ও ব্যবসায়ীদের সাথে তিনি মতবিনিময় করেন, কুশল বিনিময় করেন এবং মোমবাতি মার্কায় ভোট চান। এছাড়া সরকার বাজার, দিয়ারা বাজার, মাঝির বাজারসহ আরো বেশ কিছু এলাকায় তিনি ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এসব গণসংযোগে লক্ষ্যণীয় দিক ছিল- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী তাঁদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোমবাতির প্রার্থীকে স্বাগত জানান। এসব পীর ওলী ভক্ত মা-বোনরা ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার, নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ’ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান।

মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ এসব জনপদ গণসংযোগ করতে গিয়ে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখেন। এলাকাবাসী মেঘনার সেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা দেখিয়ে তাদের বসতভিটা ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার সেই দুঃখ কষ্টের ঘটনা তুলে ধরেন। এ সময় আহসান উল্লাহ বলেন, আমি নির্বাচিত হই বা না হই, আপনাদের এই জনপদকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে যা যা করণীয় ইনশাআল্লাহ আমি সবটুকু করবো। আমি যেহেতু সাংবাদিকতা করি। আমার লিখনির মাধ্যমে স্থানীয় এবং জাতীয় মিডিয়ায় তুলে ধরে এই জনপদকে মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, এই জনপদের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এখানে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নাই। কোনো মানুষ একটু অসুস্থ হলে তাকে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে হাইমচর অথবা চাঁদপুরে যেতে হয়। কোনো ধরনের কমিউনিটি ক্লিনিকও নেই। শিক্ষা ব্যবস্থারও করুণ দশা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে ওঠা পর্যন্তই শেষ। মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো মানের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই জনপদে নেই। এমন নাগরিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেই এই জনপদের মানুষ জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি- আমার জীবনের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমি আপনাদের পাশে থাকবো।

প্রার্থী আহসান উল্লাহর সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রাহীম, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ,  জেলা যুবসেনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তালুকদার, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা ফয়েজ আহমেদ, কাউসার হোসেন, যুবসেনার নেতা শাকিল আহমেদ, সদর উপজেলা ছাত্রসেনার সাংগঠনিক সম্পাদক জায়েদ হোসেন, স্থানীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতা মো. আলী আজগর খান, মাওলানা আল আমিন, মুনসুর আহমেদ, আফজাল হোসেন, রুহুল আমিন, নাঈম আহমেদ প্রমুখ নেতারা।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম